প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আমাকে দিয়ে গোল করিয়ে নেন সুভাষ: রণজিৎ মুখার্জি

0
1749

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি, কলকাতা: চলে গেলেন ময়দানের প্রিয় ভোম্বল দা। ৭২ বছর বয়সে প্রয়াত সুভাষ ভৌমিক। ফুটবলার তথা কোচ সুভাষ ভৌমিককে তো আমরা সকলেই চিনি। কিন্তু মানুষ সুভাষ ভৌমিক?

আরও পড়ুন: Exclusive: সমরেশের থেকে বাঁ পায়ের সুইং শিখেছিলেন সুভাষ, স্মৃতিচারণায় প্রাক্তন সতীর্থ

প্রাক্তন ফুটবলার তথা একদা সতীর্থ রণজিৎ মুখার্জির কথায়, “খেলোয়াড়দের প্রশাসক হিসেবে নাম্বার ওয়ান ছিল সুভাষ। কিন্তু মন ছিল একেবারে শিশুর মত সরল।” পাশাপাশি সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি প্রসঙ্গে একাধিক স্মৃতি খাস খবরকে তুলে ধরলেন রণজিৎ।

বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফিতে রণজিতের যখন অভিষেক, অধিনায়ক সুভাষ-ই। সেই তখন থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন ভ্রাতৃসম সতীর্থের অনুপ্রেরণা। রণজিৎবাবুর কথায়, “গোল করতে গাটস লাগে। সেই গাটস পুরোমাত্রায় ছিল সুভাষের। এবং তা আমাদেরও শিখিয়ে গিয়েছেন।” তুলে ধরেন ১৯৭৫ -র কলকাতা লিগের একটি ঘটনা।

৭০ দশকের দাপুটে ফুটবলার জানান, “৭৫ সালের মহামেডান ম্যাচের কথা মনে পড়ছে। আমার গোলেই খেলা তথা সেবারের লিগের মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু সেই গোল আমাকে দিয়ে করিয়ে নেন সুভাষ-ই।” রণজিৎকে নাকি সুভাষকে বলেছিলেন তাঁর গায়ে গায়ে থাকতে। “সুভাষ আমাকে আগে থেকেই বলে দিয়েছিলেন, যেন ওঁর গায়ে গায়ে থাকি। তাই হল। মাঝমাঠে ৪-৫ জনকে কাটিয়ে আসার পর সুভাষের সঙ্গে নাঈমের একটা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সেই সুযোগে পিছনে থাকা আমি জালে বল জড়িয়ে দিই। এই গোলেই ম্যাচ এবং লিগ জয় করে লাল-হলুদ।”

রণজিৎ আরও জানান চ্যালেঞ্জের মুখে খেলতেই নাকি বেশি পছন্দ করতেন সুভাষ। খেলোয়াড় হিসেবে এবং প্রশিক্ষক হিসেবেও। বলেন, “এমন অনেক ম্যাচ আছে, যেখানে দল হারছে বা ড্র করছে। সেই জায়গাতেই গোল করতে ভালোবাসতেন সুভাষ। এবং তা অসংখ্যবার করেও দেখিয়েছেন।”

দুজনেই ছিলেন লাল-হলুদের একদা কোচ। সে স্মৃতিও জোরালভাবে ভিড় করে আসছে রণজিৎ মুখার্জির মনে। “সেটা ১৯৯৯ সাল। সুভাষদা ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব সদ্য সদ্য নিয়েছেন”, বলেন, “এদিকে বাইপাস হয়েছে। কথা বলতে পারেন না ঠিক করে। সহকারী হওয়ার সুবাদে দেখতে পাই কী অভূতপূর্বভাবে নিজের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি।”

আরও পড়ুন: Exclusive: ৬০ এর দশকে আমরা সুভাষ দাকে দেখে বড় হয়েছি, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়

বাইপাস প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতেই এসে পড়ে সাম্প্রতিক অসুস্থতার প্রসঙ্গ। আবেগতাড়িত রণজিৎ জানান, “বেশ কয়েক মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন সুভাষ। আমার সঙ্গে শেষবার দেখা হয় যখন, তখনই ওর ক্রিয়েটিনিন ৬ -র ওপরে উঠে গিয়েছিল। ওঁর আরেকটু সাবধান হওয়া উচিত ছিল। তাহলে হয়ত এই অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হত না আমাদের।”