অবিশ্বাস্য, প্রযুক্তির দৌলতে আস্ত বাড়ি উঠছে মাটি থেকে ওপরে…

0
249

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অল্প জলেই মেঝেতে জলে জমে যায়? বেহাল নিকাশির জেরে জেরবার আপনি? অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! এই প্রযুক্তির দৌলতে জিনিসপত্র, লোক লস্কর সহ মাটি থেকে তিন ফুট উপরে উঠছে আস্ত জীর্ণ বাড়ি! সৌজন্যে নয়া প্রযুক্তি৷

বাঁকুড়া শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্ত পল্লীর মাঠ পাড়ার চক্রবর্তী পরিবার৷ বেশ কয়েক দশক আগে তৈরি দোতলা বাড়ি। বৃষ্টি হলেই ওই পুরানো আমলের বাড়ির নিচের তলার ঘরের ভিতরে পর্যন্ত জল ঢুকে যায়। এমনকি পাড়ার নিকাশী নালার জল ঘরময় ছড়িয়ে পড়ে। নোংরা জলে ফি-বারই জেরবার হতে হয় পরিবারের সদস্যদের৷ তাহলে উপায়? বাড়ির মেঝে তো আর উঁচু করা সম্ভব নয়! পুরানো বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি তৈরির ঝক্কিও কম নয়! তখনই মুশকিল আসান হিসেবে হাতের কাছে হাজির নয়া প্রযুক্তি৷

হ্যাঁ, শুধুমাত্র প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে মাত্র ১২০ টি জ্যাকের সাহায্যে বাঁকুড়া শহরের সুকান্ত পল্লী, মাঠ পাড়ার চক্রবর্তীদের ‘রামসদয় স্মৃতি ভবন’ ধীরে ধীরে মাটি থেকে তিন ফুট উপরে তোলার কাজ চলছে! কাজটি করছে হরিয়ানার এক সংস্থা৷ তবে এই কাজ করার জন্য বাড়ি খালি করার প্রয়োজন হয়নি। তলে তলে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে উচ্চতা বাড়ানো হচ্ছে বাড়ির।

 বাঁকুড়া শহরের এই দোতলা বাড়িতে সপরিবারে থাকেন তীর্থ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘গন্ধেশ্বরী নদীর পাশেই বাড়ি। ফি বছর বর্ষায় পাড়ার নিকাশী নালা দিয়ে নোংরা জল বাড়ির নীচের তলায় ঢুকে পড়ছিল। শেষমেশ নেট মাধ্যমে হরিয়ানার এক বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থার খোঁজ পাই৷’’ গত ২৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ১২ জন সুদক্ষ কর্মী ও প্রযুক্তিবিদ জ্যাকের সাহায্যে পুরনো আমলের বাড়িকে ধীরে ধীরে মাটি থেকে ওপরে তোলার কাজ করছেন। এই মুহূর্তে কাজ প্রায় শেষের পর্যায়ে বলেই তিনি জানিয়েছেন। ২৫০ টাকা স্কোয়্যার ফুট হিসেবে বাড়ির উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি৷

তবে জ্যাক দিয়ে বাড়ি উঁচু করার কাজ এরাজ্যে বেশ কয়েক জায়গায় ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে। বাঁকুড়া জেলায় অবশ্য এই কাজ প্রথম। সংবাদমাধ্যমের দৌলতে সেই খবর এলাকার মানুষ পেলেও চোখের সামনে তা দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কেউই। ফলে স্বভাবতই শহরের অনেক মানুষই তা দেখতে ভিড় করছেন। হরিয়ানার ওই সংস্থার কর্মী রামু কুমার বলেন, ‘‘১২০ টি জ্যাকের সাহায্য নিয়ে আমরা এই কাজ করছি।’’ আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল নিজে ইতিমধ্যে এই কাজ দেখে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘বাঁকুড়া শহরের অনেক জায়গা আছে যেগুলো বর্ষায় ডুবে যায়। সামর্থ্যবানরা চাইলে এই সংস্থার সাহায্য নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারেন৷’’

আরও পড়ুন: তৃতীয় লিঙ্গের দুই গোষ্ঠীর বিবাদে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা