Madrassas Shut Down: ‘হিন্দুদের দেশ ভারত, বন্ধ হওয়া উচিত সমস্ত মাদ্রাসা’, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় দেশ

0
167

গুয়াহাটি: ফের অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তর-পূর্বে চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে যে পদক্ষেপগুলি নেওয়া উচিত সে সম্পর্কে তাঁর মতামত ভাগ করে নিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সেই কথপোকথনের সময়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। বলেছেন ‘ভারত হিন্দুদের দেশ। এদেশে সব মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’

অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অতীতে এই অঞ্চলটি যে চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠেছে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “এগুলি সবই উন্নয়নের বিষয়ে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ রাজ্য রেলওয়ে এবং হাইওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না, গত পাঁচ বছরে, উত্তরে নাটকীয় উন্নয়ন হয়েছে- পূর্ব দেখা গিয়েছে।” একই সঙ্গে দেশের সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করা নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করে বলেছেন তিনি চান মেডিক্যাল কলেজ, ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক সমস্ত মাদ্রাসা বন্ধ করে। এই মন্তব্য নিয়েই এখন চলছে কাটাছেঁড়া।

ইতিমধ্যেই অসমে বন্ধ হয়েছে সরকারি খরচে চলা মাদ্রাসা। তারপরেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, “অসমের কিছু লোক মাদ্রাসার মাধ্যমে মোল্লা বানাতে চায়। পরিবর্তে, আমি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে তাদের ডাক্তার বানাতে চাই। বাবা হিসেবে আমি চাই আমার সন্তানরা ডাক্তার হোক। আমি যদি মুসলিম এলাকায় যাই এবং বলুন যে আমি তাদের বাচ্চাদের ডাক্তার বানাতে চাই, তাদের খুশি হওয়া উচিত। এটা আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ যে আমি তাদের ডাক্তার করতে চাই, মোল্লা নয়। পছন্দ, স্পষ্টতই, তাদের।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন, “ইন্ডিয়া কথাটা এসেছে ১৯৪৭ সালে। কিন্তু তার আগে ৭ হাজার বছর আমরা পরিচিত ছিলাম হিন্দু হিসাবে। আমি সভ্যতায় বিশ্বাস করি। আর আমি বিশ্বাস করি আমাদের সভ্যতা হিন্দু সভ্যতা।”

উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “গত পাঁচ বছরে উত্তর-পূর্ব শান্তির যুগ দেখেছে। এখন, উত্তর-পূর্বের লোকেরা দেশের বাকি অংশে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। ভারত অবশেষে উত্তর-পূর্বে এসেছে। বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি একটি নতুন আশায় অনুবাদ করেছে।” তাঁর কথায়, “এখন, যখন উত্তরপ্রদেশের কোনো ব্যক্তি আসাম বা মিজোরামে যান, তখন তাদের ভাই-বোনের মতো আচরণ করা হয়। সমস্যা আছে কিন্তু বিচ্ছিন্নতা এবং সার্বভৌমত্বের দাবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে। এগুলি এমন সমস্যা যা সমাধান করা যেতে পারে। “

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, “প্রত্যেকের উচিত মুসলিম এলাকায় গিয়ে মাদ্রাসাগুলো বন্ধ করতে বলা। তাদের উচিত স্কুল বানানো। রাজনীতিবিদদের এটা বলার সাহস থাকা উচিত যদিও এটা ফল্টলাইন তৈরি করে। আমি সব সরকারি মাদ্রাসাকে ফান্ড দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের নতুন কিছু দরকার। যে রাজনীতিবিদরা মুসলিম এলাকায় গিয়ে বলতে পারেন যে একজন হিন্দু মেয়ে যদি পিএইচডি স্কলার বা ডাক্তার হতে পারে, তাহলে আপনি কীভাবে আপনার মেয়েদের উপর সীমাবদ্ধতা চাপিয়ে দিতে পারেন? আপনি বাচ্চাদের তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং তারা আপনাকে বলবে যে তারা ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।” অসমের পর দেশের মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়েই এবার না মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে।