নিয়োগ কেলেঙ্কারি পরোক্ষে স্বীকার করে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় শুভেন্দু

0
24

কলকাতা: স্কুল শিক্ষক পদের নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে এবার পরোক্ষে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দোপাধ্যায়৷ একই সঙ্গে নাম না করে এই প্রসঙ্গে টেনে আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নিজের প্রাক্তন পছন্দের শিষ্য শুভেন্দু অধিকারীকে৷ এদিন বিধানসভায় বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে বলতে শোনা যায়, ‘‘এক লক্ষ চাকরি দিতে গিয়ে একশোটা ভুল হতেই পারে। তা শুধরে নিতে হবে এবং সময় দিতে হবে। বেকারদের আমরা চাকরি দেব। তাতে যদি কোনও সমস্যা হয়, তা মিটিয়ে নিতে হবে।’’

এরপরই নাম না করে পরোক্ষে ইঙ্গিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারীর দিকে৷ বলেছেন, ‘‘আর যে দাদামণি চাকরি দিয়েছেন, তাঁর হিসেব কে নেবে? সিবিআই তাঁদের ধরবে না? মেদিনীপুর থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে উত্তর দিনাজপুর। সেই সব জায়গায় দাদামণি চাকরি দিয়েছেন।’’ কে এই দাদামণি তা স্পষ্ট করতে এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘‘মন্দারমণির নাম এখন ‘দাদামণি’ হয়ে গিয়েছে! কেন হয়েছে, জানেন তো!’’

মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বয়ান শুনে বিধানসভার অন্দরেই তীব্র শোরগোল পড়ে যায়৷ প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিকের পর এবার সামনে এসেছে প্রাথমিকে নিয়োগ কেলেঙ্কারি৷ যাতে নাম জড়িয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের৷ রাজনৈতিক মহলের অভিমত, ওই ইস্যুতেই পার্থর পাশে দাঁড়াতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘এক লক্ষ চাকরি দিতে গিয়ে একশোটা ভুল হতেই পারে।’’

এরপরই পরোক্ষে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাম না করে নিশানা করেছেন শুভেন্দুকে৷ সেই সূত্রেই টেনে এনেছেন প্রাক্তন শাসক সিপিএমকেও৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বাম আমলে অনেক অবৈধ চাকরি হয়েছিল। আমি ক্ষমতায় এসে সেই সব চাকরি খেতে পারতাম। কিন্তু, তেমনটা করিনি।আর এখন বলা হচ্ছে, ১৭ হাজার চাকরি খেয়ে নেব।’’ এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে যোগ করেছেন, ‘‘তা হলে ওই সব ছেলেমেয়েদের ওঁর বাড়ি পাঠিয়ে দেব। বিজেপি বিধায়কদের বাড়ি পাঠিয়ে দেব।’’ স্বভাবতই, মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বয়ানকে ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ পরে এই বিষয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ওরা অবৈধভাবে চাকরি দিয়েছিল৷ সিবিআইয়ের তদন্তে সব তথ্য ফাঁস হচ্ছে বলে চাকরি হারাদের আমাদের বাড়িতে পাঠানোর হুমকি দিচ্ছে৷’’

আরও পড়ুন: মন্ত্রীর বাড়িও নিরাপদ নয়. হাতের মুন্সিয়ানায় দেখালেন তরুণী তস্কর