মগরাহাট কাণ্ডে ন-বছর পর জামিন পেলেন রাহুল সিনহা

0
121

সুদেষ্ণা মণ্ডল, ডায়মন্ডহারবার: মগরাহাটের ঘটনায় দীর্ঘ ন-বছর পর অবশেষে জামিন পেলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা । বুধবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করে ডায়মন্ডহারবার আদালত ।

আরও পড়ুন: এবার ধেড়ে ইঁদুর! কালীঘাটের কাকু গ্রেফতার হতেই মুড়ি বাদাম হাতে CGO তে কি করল বিজেপি?

- Advertisement -

আদালত সূত্রের খবর, ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর মগরাহাট থানার অন্তর্গত এক নাবালিকা তার পরিবারের সাথে ডায়মন্ডহারবার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে আসে । কিন্তু হঠাৎই রহস্যজনক ভাবে হাসপাতাল চত্বর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে । এরই মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নাবালিকা তার পরিবারের কাছে ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে জানায় হাসপাতাল চত্বর থেকে তাকে অপহরণ করে পাচার করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির এক নিষিদ্ধ পল্লীতে। পরিবারের লোকজন মগরাহাট থানাতে সমস্ত ঘটনা বিবরণ সহকারে জানায় । সেই সময় পরিবারের লোকজনেরা দাবি করে যে পুলিশকে সব রকম প্রমাণ দেওয়ার পরেও নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য কোনরকম হেলদোল দেখায়নি পুলিশ। এরপর নাবালিকাকে উদ্ধারের দাবী জানিয়ে মগরাহাট থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তৎকালীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা ।

এই ঘটনায় আবারও সরগরম হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি । বিজেপির একটানা বিক্ষোভের জেরে শেষমেশ নড়েচড়ে বসে পুলিশের বড় কর্তারা । এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা আসলাম ওরফে জব্বারকে গ্রেফতার করে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থানার পুলিশ ৷ তবে নতুন করে আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি গাজিয়াবাদ , মগরাহাট ও ডায়মন্ডহারবার থানার পুলিশ ৷ সূত্রে জানা যায় , ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে পাচারের পর দিল্লি , হিমাচলপ্রদেশ , পাঞ্জাব , উত্তরপ্রদেশ -সহ একাধিক রাজ্যে ঘুরিয়ে দিনের -পর -দিন গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ৷ দিল্লির তেগ বাহাদুর হাসপাতালে গুরুতর জখম অবস্থায় ওই নাবালিকা চিকিৎসাধীন থাকার কয়েকদিন পর নাবালিকা মারা যায়।

এরপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা বছর। মগরাহাট থানার সামনে সেই সময় অবস্থান বিক্ষোভ করার জন্য বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মগরাহাট থানার পুলিশ। বুধবার জামিনের জন্য স্ব-শরীরে ডায়মন্ডহারবার মহকুমার আদালতে আসেন রাহুল সিনহা । আদালতে এসে নিজের জামিনের জন্য আবেদন করেন । দীর্ঘ ন-বছর পর অবশেষে তাঁর জামিন মিলল ডায়মন্ডহারবার মহকুমার আদালতে ।

এদিন জামিন পাওয়ার পর রাহুল সিনহা বলেন, ‘‘মগরাহাটের একটি পুরানো কেসে আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে আদালতে এসেছি । ব্যক্তিগত আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জামিনের জন্য আবেদনও করি । মহামান্য আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে ।’’ এদিন আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে “কালীঘাটের কাকুর” গ্রেফতারের ঘটনায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি । তিনি বলেন , ‘‘নিয়োগ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই কালীঘাটের কাকু। তদন্তকারী সংস্থা এই নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় যেভাবে তদন্ত শুরু করেছে তাতে মনে করা যাচ্ছে যে , আরও নতুন নতুন নাম বেরিয়ে আসবে।’’ কাকে ইঙ্গিত করতে চাইছেন? মুচকি হেসে নীরব থেকেছেন রাহুল!

আরও পড়ুন: ভাইপোর সামনে মোদী ফ্যাকাশে! কোন প্রসঙ্গে এমন বললেন বিরোধী দলনেতা?