দিঘা যেন আবর্জনার স্তুপ, ভাসছে পিপু-ফিশুর কাহানি

0
93

মিলন পণ্ডা, দিঘা: পিপু ফিশু৷ পিঠ পুড়ছে ফিরে শু! প্রশাসন দুষছে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের৷ একইভাবে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুষছেন প্রশাসনকে৷ যার নিটফল, আবর্জনার স্তুপ বাড়ছে সৈকতনগরী দিঘা-মন্দারমনি-তাজপুরে৷স্বভাবতই আক্ষেপ ঝরছে পরিবেশবিদদের চোখে মুখে৷ বলছেন, অ-শনি ঘূর্ণিঝড় থেকে সমুদ্র নগরী রক্ষা পেলেও পর্যটক ও স্থানীয়দের একাংশের অত্যাচার থেকে মুক্তি মেলেনি৷

সৈকত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যত্রতত্র পড়ে রয়েছে আবর্জনা। তার থেকে কার্যত ছড়াচ্ছে দূষণ৷ ক্ষোভের সুরে পরিবেশবিদরা বলছেন, ‘‘নিজের বাড়িতে যেখানে খান, সেখানেই কি মলত্যাগ করেন? করেন না তো! তাহলে বাড়ি থেকে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলে সেই সৌন্দর্য রক্ষা করার ভারও কিন্তু পর্যটক ও স্থানীয়রা অস্বীকার করতে পারেন না৷’’

আরও পড়ুন-শুধু বাড়ি ফেরালে হবে না, ঘর ছাড়াদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও সরকারকেই নিতে হবে

দিঘা, মন্দারমনি কিংবা তাজপুর৷ সমুদ্র সৈকতে একটু চোখ চালালেই চোখে পড়বে ইতি উতি জল, কোল্ড ড্রিঙ্কসের খালি বোতল, সিগারেটের খালি প্যাকেট থেকে চিপসের পলিথিন সহ হাজারও আবর্জনা৷ বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতো পর্যটকদের খুশি করে বাড়িতে বাড়তি লক্ষ্মীলাভের আশায় একাংশ ব্যবসায়ী সৈকত সরণি সংলগ্ন সি-বিচে ঘোড়া নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ ঘোড়ায় চেপে ছবি তোলা থেকে ভ্রমণ সবই চলছে৷ এমনকি ওই সরণি সংলগ্ন সি-বিচেই চলছে ঘোড়ার স্নানও৷ বাসিন্দারা অবশ্য বলছেন, শুধু আমাদের বা পর্যটকদের দোষারোপ করে কোনও লাভ নেই৷ প্রশাসনের পর্যাপ্ত নজরদারি নেই৷ এমনকি ঘোষণা হলেও দিঘায় নিয়মিত পরিষ্কার হয় না ড্রেন৷ ফলে মজে যাওয়া নিকাশি থেকেও ছড়াচ্ছে দূষণ৷

পর্যটকদের কথায়, ‘‘মানুষ ঘুরতে এসে আনন্দে আত্মহারা হয়ে একটু শৃঙ্খলা ভাঙতেই পারে! কিন্তু সেটা তো দেখার দায়িত্ব প্রশাসনেরই!’’ দিঘায় বেড়াতে আসা এক পর্যটক প্রসুন করণ বলেন ” দিঘায় দূষণ ছড়াচ্ছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের অনুরোধ করব অবিলম্বে পরিষ্কার করার জন্য৷” দিঘা উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিক মানস কুমার মণ্ডল বলেন ” মাসে প্রায় দিন ড্রেন এবং সৈকত নগরী বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু পরিচ্ছন্নতা রক্ষার ক্ষেত্রে পর্যটক ও স্থানীয়দের সহযোগিতাও প্রয়োজন৷’’ অগত্যা চলছে পরস্পরকে দোষারোপের পালা৷ যার নিট ফল, দিঘার বিচে ভেসে বেড়াচ্ছে পিপু-ফিশুর কাহানি৷