কলকাতার পর জেলাতে সফল প্রথম লিভার প্রতিস্থাপন, নজির গড়ল সোনারপুরের IILDS

0
224

সুদেষ্ণা মন্ডল, সোনারপুর: চিকিৎসা ক্ষেত্রে কেবল কলকাতাই নয় এবার এগিয়ে গেল জেলাও। কলকাতার পর জেলাতেও সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপন করে নজির গড়লো সোনারপুরের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ সায়েন্সেস-এ (IILDS)। জেলাতে এই প্রথম সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপন করা হল ।

২০২২-ওর ১৮ মে  চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তায় লাটাগুড়ির বাসিন্দা সুজয় দেবের লিভার প্রতিস্থাপন হয়।ডোনার ছিলেন তাঁর  স্ত্রী সুস্মিতা দেব। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দুজনেই ভালো ও সুস্থ আছেন। লাটাগুড়িরই আরেক বাসিন্দা নকুল দেবের লিভার প্রতিস্থাপন হয় গত বছরের ২২ ডিসেম্বর। এই অসাধ্য সাধন করেন চিকিৎসক বরুন নাথ, সুপর্না পাল, কল্যান বোস, অশোকানন্দ কোঙার, শৌভিক মিত্র, দীপঙ্কর মন্ডল, অরিজিত সামন্ত, তাপস ঘোষ, অনুসুয়া বন্দোপাধ্যায়ের একটি টিম। তারাই জটিল অস্ত্রপ্রচার করেন। জেলাতেও এই বড় সাফল্য প্রসঙ্গে IILDS-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পার্থ সারথি মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “এটি একটি জটিল অস্ত্রোপচার। লিভার প্রতিস্থাপন করার আগে অনেকগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। প্রথমত যিনি ডোনার তাঁর বয়স হতে হয় ২০ থেকে ৫৫’র মধ্যে। সেই সঙ্গে দেখতে হয় যে তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা আছে কিনা, আর থাকলেও তাতে যদি তিনি লিভার দান করেন, তাহলে লিভার প্রাপকের কোনও শারীরিক ক্ষতি হবে কিনা। দ্বিতীয়ত, একই রক্তের গ্রুপ হওয়া প্রয়োজন।”

- Advertisement -

আরও পড়ুন- তীব্র ঠান্ডায় পদযাত্রা চলাকালীন খালি গায়ে নাচছেন কংগ্রেস কর্মীরা, বসে কবাডি খেলা দেখলেন রাহুল গান্ধী

সফল অস্ত্রপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আজকাল অনেক জায়গায় আলাদা রক্তের গ্রুপেও লিভার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে, কিন্তু একই রক্তের গ্রুপ হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।”  IILDS-এর  চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের জটিল অস্ত্রপ্রচারের বিষয়ে আরও সচেতনতার প্রয়োজন। মানুষ সচেতন হলে আরও বেশী করে ডোনার পাওয়া যাবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। বেশি সংখ্যক মানুষ এগিয়ে এলে নেকের জীবন সুস্থ হয়ে উঠবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কম খরচে এখানে সফল অঙ্গপ্রতিস্থাপন হচ্ছে। ডোনার সুস্মিতা দেব বলেছেন, “লিভার প্রতিস্থাপনে হাসপাতাল অনেক সাহায্য করেছে। দান করার পরে আমার কোনও অসুবিধে হয়নি। স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। স্বামীর জন্য এটুকু করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।” স্ত্রীর লিভার পেয়ে সুজয় দেব বলেছেন, এই হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপনের পর তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা এখনও পর্যন্ত বুঝতে পারেননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং তাঁর স্ত্রী’র জন্য যে তিনি নতুন জীবন পেয়েছেন, একথা জানাতে ভোলেননি সুজয় বাবু।  চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালের সকলকেই অশেষ ধন্যবাদ জানান।

আরও পড়ুন- হাওড়ায় ধৃত দুই সন্দেহভাজন IS জঙ্গি, জেরায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

উল্লেখ্য, লিভার প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য রাজ্যের মানুষ সাধারণত ভিনরাজ্য বিশেষ করে দক্ষিন ভারতের রাজ্যে যাওয়াই প্রথম পছন্দ বলে মনে করেন। এই জায়গাতেই সফল ভাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে IILDS রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ছাপ রাখতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজ্যের চিকিৎসকমহল। কলকাতার পাশাপাশি জেলাতেও এই সাফল্য জেলার মানুষদের জন্য অনেকটাই সুবিধা করে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।