ফুটবল থেকে রাজনীতি: সেরা বাঙালি স্ট্রাইকারের কাহিনী

0
19
from-football-to-politics-story-of-dipendu-biswas-indian-professional-footballer

শান্তি রায় চৌধুরী: কলকাতা ময়দানের একমাত্র ফুটবলার যিনি কলকাতার তিন প্রধানের জার্সি পরে অধিনায়কত্ব করেছেন। আর জাতীয় দলের হয়ে অধিনায়কত্বও করেছেন। ইনি হলেন বাংলার ফুটবলের শেষ নামী বাঙালী স্ট্রাইকার দিপেন্দু বিশ্বাস। যার পা থেকে এসেছে ক্লাব ফুটবলে ২৫০ এর বেশী গোল। দীপেন্দুর বাবা বাঙালী আর মা ছিলেন কেরালার বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই তার জিনের মধ্যেই ছিল ফুটবল এবং রাজনীতি। আর দুটোই একসঙ্গে করেছেন। ১৯৯৬ সালে জামশেদপুরের টাটা ফুটবল একাডেমির প্রোডাকশন দীপেন্দু মোহনবাগানে যোগদান।

দু’বছর মোহনবাগানে খেলে ১৯৯৮তে ইস্টবেঙ্গলে চলে যান। এক বছর পর আবার মোহনবাগানে ফেরেন। সেখান থেকে দু’ বছরের জন্য (২০০০, ২০০১) ইস্টবেঙ্গলে ফেরা। ২০০২ আর ২০০৩ মহমেডানে কাটিয়ে ২০০৪য়ে তিনি মাহীন্দ্রা ইউনাইটেডে যোগ দেন। ২০০৫ আর ২০০৬য়ে মোহনবাগানে ফিরে আসেন। আর ২০০৭য়ে আবার খেলেন ইস্টবেঙ্গলে। ২০০৮য়ে যান জর্জ টেলিগ্রাফে। ২০০৯য়ে তৃতীয়বারের জন্য যান মহমেডানে এবং ২০১০য়ে সেখানে খেলে ২০১১তে ভবানীপুরে যান।

- Advertisement -

২০১২তে আবার ফেরেন মোহনবাগানের হয়ে খেলার জন্য। ২০১৩তে আবার তিনি মহমেডানে যান। ২০১৪ অবসরে থেকে, ২০১৫তে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর হয়ে খেলেন, কোচ হবার অফার ফিরিয়ে দিয়ে। প্রায় দুই দশক ভারতীয় ফুটবলে দাপিয়েও তখনো ফুটবলের নেশায় বুঁদ ছিলেন তিনি৷ ২০১৬তে মহমেডানের হয়ে শেষবারের মত খেলেন তিনি। তিনি তিন প্রধানের হয়ে খেলে তিনবার জাতীয় লীগের সদস্য ছিলেন। ভারতের হয়ে খেলেছেন প্রাক অলিম্পিক, প্রাক বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, সাফ গেমস আর আফ্রো-এশিয়ান গেমসে।

২০১৯ মহমেডানের কোচ হন আর ২০২০তে তিনি ছিলেন একই সঙ্গে মহমেডানের সেক্রেটারী ও টেকনিকাল ডিরেক্টর। তারই অধীনে মহমেডান দল ৮ই অক্টোবর ২০২০ থেকে আইলীগের ২য় ডিভিসনে খেলতে নেমেছিল কলকাতায়। রাজনীতির ময়দানে তিনি প্রবেশ করেন ২০১৪ সালে। বসিরহাট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ে বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্যর কাছে হেরে যান। ২০১৬র বিধানসভা ভোটে সেই বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্যকেই কুড়ি হাজার ভোটেরও বেশী ব্যবধানে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ৫ বছরের জন্য বিধানসভা সদস্য হন তিনি। তারপর বহু পথ পেরিয়ে এখন, এই মুহূর্তে তিনি রাজনীতির পেনাল্টি বক্সের বাইরে।