স্নানযাত্রার পর প্রতিবছর কেন জ্বর হয় জগন্নাথদেবের

0
50

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: আষাঢ় মাসে রথযাত্রা। উড়িষ্যার প্রধান উৎসব। তার আগে জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমায় স্নানযাত্রা হয় নীলাচলের অধীশ্বর জগন্নাথ দেবের। স্নানযাত্রার পরই কিন্তু রথযাত্রা নয়। মধ্যবর্তী সময়ে জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথ দেব। এই সময় তাঁর সেবা শুশ্রূষা করাও ভক্তদের কাছে একটি পরম আচার।

আরও পড়ুন: রাত পোহালেই অম্বুবাচী, জেনে নিন পার্বণটি কী ও কেন

প্রতি বছরই স্নানযাত্রার পরপরই জ্বরে পড়েন জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রা। কিন্তু কেন জ্বরে পড়েন তাঁরা।

ভারতবর্ষে নীলাচল অর্থাৎ পুরী-ই একমাত্র তীর্থ, যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কাঠের মূর্তিতে এবং দাদা বলরাম আর বোন সুভদ্রার সঙ্গে পূজিত হন। আর শাস্ত্রমতে, জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা ভগবান জগন্নাথের জন্মতিথি। এই তিথিতে-ই তিনি পুরীর মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা মালবরাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে আদেশ দেন, যেন ১০৮টি কলসির জলে স্নান করিয়ে তাঁর অভিষেক করা হয়।

ভগবানের সেই আদেশ মাথায় রেখেই প্রতি জৈষ্ঠ্য পূর্ণিমায় ১০৮টি কলসির জলে পবিত্র স্নান করানো হয় তিন ভাইবোনকে। কিন্তু মুশকিল হল, জগন্নাথ তো শ্রীকৃষ্ণের বাল্যরূপ। আর কোনও বালককে এত স্নান করালে সে তো অসুখে পড়বেই। একইভাবে জগন্নাথদেবের-ও জ্বর এসে যায়। ফলতঃ দাদা এবং বোনের সঙ্গে আগামী ১৫টা দিন তাঁকে নিভৃতবাসে কাটাতে হয়। অর্থাৎ অমাবস্যা পর্যন্ত।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

এই ১৫ দিন গর্ভগৃহের দরজা বন্ধ থাকে। এ সময় কয়েকজন পুরোহিত চিকিৎসকের মত ভগবানের সেবায় নিযুক্ত হন। জগন্নাথকে তাঁরা সুতির বস্ত্র পরান। দুধ, ফলের রস ইত্যাদি হালকা খাবার খেতে দেন। এছাড়া নানান আয়ুর্বেদিক ওষুধ দেন। পঞ্চম দিন ওড়িয়া মঠ থেকে আসা ফুলেরি দিয়ে হাল্কা মালিশ করা হয় প্রভু জগন্নাথকে।

এরপর রক্তচন্দন আর কস্তুরির প্রলেপ-ও লাগানো হয়। দশম দিনে জগন্নাথকে দেওয়া হয় নরম মোদক। যা তৈরি হয় দশমুলারিষ্ঠে নিম, হলুদ, হরড়, বহেড়া, লবঙ্গ ইত্যাদি জড়িবুটির জল দিয়ে। এরপর রথযাত্রার ঠিক একদিন আগে জগন্নাথ, বলভদ্র আর সুভদ্রা সুস্থ হয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে ফিরে আসেন।