বগটুইয়ের ‘আসল’ রহস্য জানতে শেখলালকে জেরা করতে পারে সিবিআই

0
21
Protest procession

কলকাতা: শাসকের অস্বস্তি বাড়িয়ে সোমবারই মুখ খুলেছিলেন তিনি৷ সামনে এনেছিলেন বিস্ফোরক দাবি৷ জানিয়েছিলেন, ‘‘নিহত প্রধান ভাদু শেখের টাকার ভাগ পেত অনুব্রত-আইসি৷’’ যার পাল্টা হিসেবে অনুব্রত মণ্ডলের দাবি ছিল, ‘‘কে শেখলাল? আমি ওই নামে কাউকে চিনি না৷’’ সূত্রের খবর, তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, উপপ্রধান খুনের পিছনে থাকা টাকার ‘বখরা’র মূলে ছিল গরু থেকে কয়লা, সব কিছুই৷ আর ওই ‘রহস্যে’র সন্ধান পেতে এবার ডাকা হতে পারে শেখলালকে৷

বস্তুত, টানান সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন শেখলালের স্ত্রী নাজিমা বিবি৷ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্ত্রীর মৃত্যুর পরই মুখ খুলেছিলেন শেখলাল শেখ৷ অভিযোগ করেছিলেন, ‘‘নিহত উপপ্রধান ভাদু শেখ আসলে ক্রিমিনাল৷ কয়লা, বালির বেআইনি কারবার থেকে টাকা কামানোটাই ছিল ওর মূল ব্যবসা৷ রাস্তার গাড়ি থেকেও টাকা আদায় করত৷ ভাদুর ওই টাকার একটা ভাগ যেত থানার আইসি এবং তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডেলের কাছে৷’’

শেখলালে এহেন অভিযোগকে সোমবার পাত্তাই দিতে চাননি বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ অনুব্রত৷ তাঁর পাল্টা দাবি ছিল, ‘‘কে শেখলাল? আমি ওই নামে কাউকে চিনি না৷’’ দাবি করেছিলেন, ‘‘শেখলাল শেখানো বুলি আউড়াচ্ছে৷’’ যা শুনে শেখলালের পাল্টা দাবি ছিল, ‘‘সিবিআই তদন্ত করছে৷ ঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রমাণিত হয়ে যাবে, আমি সত্যি কথায় বলছি৷’’

স্বাভাবিকভাবে, শেখলালের দাবিকে ‘হাল্কা’ ভাবে নিতে নারাজ গোয়েন্দারা৷ বস্তুত, স্ত্রীর মৃত্যুর পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ‘চাপা’ ক্ষোভ সামনে এনেছেন শেখলাল৷ দাবি করেছেন, ‘‘সেই রাতে পুলিশ নিস্ক্রিয় ছিল৷ রামপুরহাট থানা থেকে আমাদের বাড়ি মাত্র ১০-১৫ মিনিটের পথ৷ ওরা সক্রিয় হলে এভাবে আমার স্ত্রী সহ বাকিদের পুডে় মরতে হত না৷’’ ইতিমধ্যেই পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সিবিআই৷ এহেন আবহে ঘটনার সত্যতা জানতে শীঘ্রই শেখলালকে জেরা করা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর৷

আরও পড়ুন: বগটুই গণহত্যার কিনারা করতে ‘ক্রস চেকিং’য়ের কৌশল সিবিআইয়ের