আজ উদ্বোধন স্বপ্নের পদ্মা সেতুর, দূরত্ব কমবে ঢাকা ও কলকাতার

0
11

খাস খবর ডেস্ক: শত বাধা পেরিয়ে তৈরি বাংলাদেশের গর্ব পদ্মা সেতু। আজ বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে মাওয়া পয়েন্টে এসে পৌঁছেছেন তিনি। আর কিছুক্ষণ পরেই ইতিহাসে এক নব অধ্যায়ের সুচনা হতে চলেছে। স্বভাবতই এই সেতু ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছেন ওপার বাংলার মানুষ। কারণ, এই সেতু চালু হলে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ টি জেলার মানুষের। সেই সঙ্গে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যেও কমবে দূরত্ব।

আরও পড়ুনঃ অমরনাথ যাত্রায় NDRF-র দলে পাহাড়ি উদ্ধারকারী হিসাবে থাকছেন ৮ মহিলা

স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে গাড়ির লেন থাকবে একেক পাশে দুটো করে এবং একটি ব্রেকডাউন লেন। অর্থাত্‍ মোট ছয় লেনের ব্রিজ হচ্ছে, যদিও একে বলা হচ্ছে ফোর লেনের ব্রিজ। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। তবে ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় নয় কিলোমিটার। দ্বিতল পদ্মা সেতুর এক অংশ থাকবে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায়, আরেক অংশ শরীয়তপুরের জাজিরায়। সেতুর ওপরে গাড়ি চলাচল করবে, রেল চলবে নিচের অংশে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মোট খরচ করা হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। এই বছরের ২১শে জুন পর্যন্ত ব্যয় করা হয়েছে ২৭ হাজার ৭৩২ কোটি ৮ লাখ টাকা। এসব খরচের মধ্যে রয়েছে সেতুর অবকাঠামো তৈরি, নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ, বেতন-ভাতা ইত্যাদি। তবে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সেতু বাংলাদেশের জন্য একটি ‘নেশন বিল্ডিং প্রজেক্ট’। সেতুর উদ্বোধন বদলে দিতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে। এই সেতুর টোল ট্যাক্স আদায় করা হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের তরফে যান-চলাচল বাবদ টোল ট্যাক্সের একটি তালিকাও সামনে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, সড়কপথে এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় পৌঁছনোর দূরত্ব কমাবে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু খুলে গেলে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অর্ধেকের কম সময় লাগবে। খন এপার বাংলার রাজধানী থেকে ওপার বাংলায় পৌঁছতে ৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয় ট্রেনে। সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। শনিবার থেকে ২৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিলেই পা পড়বে পদ্মাপারে। সময় লাগবে ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা।