ইরানের সঙ্গে স্থগিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, ডলারকে কোণঠাসা করতে নয়া ছক মোদী সরকারের

0
55
India-Iran

খাস ডেস্ক: আগের সপ্তাহ থেকেই ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক(India-Iran) নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ভারত থেকে রফতানি হওয়া চা এবং বাসমতী চাল নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। হঠাৎ করে এই ইরানের এই আমদানি বন্ধ করার কারণ কি! তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট কোনও বার্তা দেয়নি ইরান। চা এবং বাসমতী চালের চাহিদা ইরানে প্রচুর থাকায় এই সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়ছে ভারতের ওপর। সরকারি আধিকারিকদের মতে, ইরান থেকে কিউই এবং পীচ ফল আমদানি করা বন্ধ করেছে ভারত, তারই প্রতিশোধ নিতে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ইরান। এবং এর কারণেই ভারতের থেকে আমদানিতে দাঁড়ি টানতে উদ্যোগী হচ্ছে ইরান। কিন্তু এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়িক ক্ষেত্র থেকে খবর আসছে ঠিকই তবে কূটনৈতিক স্তর থেকে এ নিয়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে না। তাই আধিকারিকরা ধারণা করছেন এটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই তথ্য মানতে নারাজ! ভারতের রফতানি বন্ধ হলে দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আসতে পারে কিন্তু আদতে এই সিদ্ধান্ত কি আগামীতে বড়সড় লাভের ইঙ্গিত মাত্র? এ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

আরও পড়ুন রাশিয়ার তেল এখন ভারতের ‘Gold’, মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তে কি প্রভাব পড়বে

- Advertisement -

একদিকে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত আদতে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ হিজাব বিরোধী বিক্ষোভের কারণেই। হিজাব বিরোধী বিক্ষোভের কারণে দেশের বহু দোকানপাট, বাজার, হোটেল বন্ধ রাখা হয়েছে। সে কারণেই এর ইরানে বাসমতী চাল এবং চায়ের চাহিদা কমেছে। তাই ভারতের থেকে চা ও বাসমতী চাল রফতানি বন্ধ করেছে। কিন্তু এত সহজ সমীকরণের কথা ভাবছে না কূটনৈতিক মহল। ভারতের থেকে চাল অন্যান্য দেশের থেকে অনেক সস্তায় আমদানি করে থাকে ইরান, তাই সেক্ষেত্রে এই আমদানি থামিয়ে দেওয়া খুবই অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইরান প্রতি বছর ভারত থেকে ৩০-৩৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা আমদানি করে এবং ১.৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম বাসমতী চাল আমদানি করে। ভারতের বাসমতী চালের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি স্থল ইরান। সেখানে ১৬ শতাংশ বাসমতী চাল রফতানি হয়। তবে আগের সপ্তাহ থেকেই সমস্ত চা ও বাসমতি চালের আমদানির চুক্তিতে সই করা বন্ধ করেছে ইরান। এমনকি জানা গিয়েছে নিকট ভবিষ্যতেও ভারত থেকে আমদানি করার কথা ভাবছে না ইরান।

ইরানের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আরও একটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভারত এবং ইরান বর্তমানে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে বর্তমানে কাজ করছে। এই নয়া চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় মুদ্রায় আমদানি এবং রফতানি করার ব্যবস্থা নিয়ে এগোচ্ছে ভারত, পাশাপাশি ভাবা হচ্ছে নয়া ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা শুরু করার কথাও। এই দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ভারতীয় মুদ্রার ব্যবহার করা যায় কিভাবে তা নিয়ে চলছে সমীক্ষা। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত যে, আমদানি এবং রফতানির জন্য ভারতীয় মুদ্রা ব্যবহার করা। সেক্ষেত্রে রাশিয়া সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আরও মসৃণ হবে। এমনকি দূর ভবিষ্যতে ভারতীয় মুদ্রাকে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে এই সিদ্ধান্ত। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ডলারের ওপর থেকেও নির্ভরতা কমবে। ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার লেনদেনের জন্য ভারতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি সপ্তাহের সোমবার দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলির CEOদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা ভারতীয় মুদ্রায় আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য করার জন্য সমস্ত ইস্যু নিয়ে বৈঠক সেরে ফেলেছেন। মূলত ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের থেকে মরিশাস, শ্রীলঙ্কা এবং রাশিয়ার মতো বেশ কিছু দেশের ব্যাঙ্কগুলি এই ভারতীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে Vostro account(বিশেষ অ্যাকাউন্ট) খোলার অনুমোদনের জন্যই এই বৈঠক করা হয়। এমনকি আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুসারে শীঘ্রই ভারতীয় মুদ্রায় আন্তর্জাতিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক বাণীজ্য করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরবের ব্যানঙ্কগুলির ভারতে Vostro account খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে ভারতীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বানীজ্য করার স্বার্থেই কি ইরান ভারতের থেকে চা ও বাসমতী চালের আমদানি চুক্তিতে আর সই করছে না? এমনিতেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ভারত, ইরান রুপিতে বাণিজ্য ও নয়া বিনিময়ের ব্যবস্থার বিষয়ে পরিকল্পনা করছে এবং নতুন একটি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা স্থাপনেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অতএব ইরানের আচমকাই ভারত থেকে চা ও বাসমতি চাল আমদানি বন্ধ করা যে, কোনও সাধারণ সিদ্ধান্ত নয় বরং আগামীতে ভারতীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থাপন করে পশ্চিমি আধিপত্যকে কোণঠাসা করে দেওয়ার প্রচেষ্টা তা টের পাচ্ছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ইরান সহ অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে ভারতের লেনদেনের এই নয়া পন্থা যে আগামীতে ভারতীয় মুদ্রার আন্তর্জাতিকীকরণ ঘটানোর একটি কূটনৈতিক প্রয়াস তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।