শারীরিক চাহিদা থেকেই বাড়ছে পালিয়ে বিয়ে, বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে বিতর্কের ঝড় পদ্মাপারে

0
181

খাস খবর ডেস্ক: প্রায় দুশো বছর আগের কথা। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অদম্য প্রচেষ্টায় বন্ধ হয় বাল্যবিবাহ। তখন অবশ্য কোনও ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশ বিভাজন ছিল না। দেশ একটাই। আর সেই গোটা দেশজুড়েই আইন করে বন্ধ করা হয় বাল্যবিবাহ।

আরও পড়ুন: কুলভূষণ যাদব মামলায় নয়া আইন পাশ হল পাক সংসদে

কে বলে বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে‌? ভারতের রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ ইত্যাদি রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তো বটেই, এমনকি বাংলাদেশের মত রক্ষণশীল দেশেও আজকাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাল্যবিবাহ। বুধবার যা নিয়ে মুখ খুললেন সে দেশের মহিলা এবং শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভানেত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। তিনি পুরো দোষই নাবালক-নাবালিকাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

কমিটির সভায় উপস্থিত মেহের বলেন, “পশ্চিমের সঙ্গে তুলনায় গেলে চলবে না। বয়ঃসন্ধিকালে প্রতিটা ছেলেমেয়েরই একটি শারীরিক চাহিদা জন্ম নেয়। পশ্চিমে অভিভাবকেরাই সে চাহিদা মেটানোর সুযোগ করে দেয়। তাই সেখানকার ছেলেমেয়েরা বিয়ে পাগল হয় না। বাংলাদেশে তো তা সম্ভব নয়।” তিনি নিজের বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি খাড়া করেন, “বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েরা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পালিয়ে বিয়ে করে। এ কারণেই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কেবল অভিভাবকের সচেতন হলেই চলবে না। তরুণ-তরুণীদেরও ওয়াকিবহাল হতে হবে।”

মেহের আফরোজ এর আগে মহিলা এবং শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি করোনাকালে বাল্যবিবাহের প্রবণতা বেড়েছে জানিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। বর্তমানে মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসার কথায়, “কোভিড পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ বেড়ে যাওয়া আশ্চর্য নয়। এই সময় অনেক পরিবারেরই আর্থিক হাল বেহাল। নাবালিকার বিয়ে দিলে যৌতুক কম দিতে হয়। সেই কারণেও অনেক বিয়ে হয়েছে। এছাড়া অনেক পরিবার তাদের প্রবাসী ছেলেকে ফিরে পেয়ে সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন।”

আরও পড়ুনআইন রক্ষা বিএসএফের কাজ নয়, এডিজির মন্তব্যের পরই চড়ছে পারদ

জানা গিয়েছে গোটা বিষয়টি নিয়ে একটি সমীক্ষা শুরু করেছে মহিলা এবং শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু তার রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি। মেহেরের বক্তব্যের পরপর এ বিষয়ের প্রেক্ষিতে আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বাংলাদেশের এক জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “মেয়েদের জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে? নাকি তারা নিজেরাই শারীরিক চাহিদা মেটাতে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে? এর কোনও উত্তরই সঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। কাজেই নীতিনির্ধারকদের আরেকটু ভেবেচিন্তে মুখ খোলা উচিত। এ ধরণের কথা বলে তারা অভিভাবকদের বাল্যবিবাহে উৎসাহিতই করছেন।”