এক কমিউনিস্ট বিজ্ঞানীকে অপমান করার ফল আজও ভুগছে আমেরিকা 

0
97

খাস খবর ডেস্ক : বাংলায় একটা কথা আছে, “দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম বুঝলনা”। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের জন্যও এই কথা প্রযোজ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক বিজ্ঞানীকে হারিয়ে বর্তমানেও পস্তাচ্ছে, তিনি বিজ্ঞানী চেন সুচেন। তাঁকে চিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ কর্মসূচীর জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। 

আরও পড়ুন : আপনি কি LIC Policyholder, তবে জেনে নিন কিভাবে IPO-তে আবেদন করবেন 

চেন সুচেন দীর্ঘ সময় পড়াশুনা করেছেন এবং প্রায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। চেন সুচেনের জন্ম ১৯১১ সালে, তাঁর বাবা চিনের জাতীয় শিক্ষানীতি রচনার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। ছোটবেলা থেকেই  উচ্চশিক্ষিত পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা চেন সুচেনের।  তিনি সাংহাইয়ের জাও টাং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে প্রথম হন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। চেন ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে (ক্যালটেক) গেলেন সেসময়কার সবচেয়ে স্বনামধন্য অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হাংগেরিয়ান বংশোদ্ভূত থিওডর ভন কারমানের অধীনে একজন গবেষক হিসাবে। সে সময় চেনের সহকর্মী ছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ফ্রাঙ্ক মালিনা। মালিনা ছিলেন সেই সময়ের মেধাবীদের নিয়ে গড়ে ওঠা “সুইসাইড স্কোয়াডের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর সাহায্যে একাধিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছিলেন চেন সুচেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির পর বিশ্বরাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে বদল আসে চেনের জীবনেও। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট চিনের জন্ম হয়, এর ফলে চিনের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। 

আরও পড়ুন : লক্ষ্য পঞ্চায়েত নির্বাচন, বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচীতে নামছে সিপিএম

চেন সুচেনকে কমিউনিস্ট এবং দেশের জন্য হুমকি দাগিয়ে দিয়ে শুরু হয় বিচার। যদিও চেন নিজেকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য বলে অস্বীকার করেছেন। তবে এফবিআই এক তথ্য পেশ করে দেখায় ১৯৩৮ সালে চেন পাসডোনায় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি আইজেনহাওয়ার দীর্ঘদিন চেনকে গৃহবন্দী করে রাখার পর ১৯৫৫ সালে চেনকে বহিস্কার করেন দেশ থেকে। চিনে ফেরার সময় জাহাজে উঠে চেন বলেছিলেন, “জীবনে আর কোনওদিন আমারিকায় ফিরব না”। মাতৃভূমিতে ফিরে বিজ্ঞানের কাজে মনোনিবেশ করেন বিজ্ঞানী চেন সুচেন। ১৯৫৭ সালে তিনি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন এবং তারপরে চিনের জাতীয় ক্ষেত্রের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার কাজে চূড়ান্ত সাফল্য পান এই কমিউনিস্ট বিজ্ঞানী। তাঁর নেতৃত্বেই চিন প্রথম মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে সক্ষম হন।