অ্যানেস্থেশিয়ানের অভাবে বন্ধ সিজার, প্রসূতির প্রাণ গেলে দায় নেবে কে?

গালভরা প্রতিশ্রুতি, কার্যক্ষেত্রে ছবিটা উল্টো

0
29
shantipur state general hospital

শান্তিপুরঃ চরম অব্যবস্থার অভিযোগ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের (Shantipur State General Hospital) বিরুদ্ধে। অভিযোগ, অ্যানেস্থেশিয়ান নেই, জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানান্তরিত করতে হচ্ছে প্রসূতিদের। রোগীর প্রাণহানি ঘটলে দায় নেবে কে?  প্রশ্ন বিরোধীদের।

আরও পড়ুন :মাথার উপর গনগনে তাপ, পথে চলতেই গলা শুকিয়ে কাঠ, কাজের ফাঁকে ঠাণ্ডা পানীয়ে স্বস্তির চুমুক

- Advertisement -

সঠিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। বিনামূল্যে, কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীরা যাতে অল্প পয়সায় নিজেদের চিকিৎসা করাতে পারেন তার জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে মমতা সরকার। কার্যক্ষেত্রে তা কতটা ফলপ্রসূ? হামেশাই প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ শান্তিপুর হাসপাতালের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। অ্যানেস্থেশিয়ান না থাকায় সপ্তাহে তিন দিন বন্ধ থাকে সিজার।

আরও পড়ুন :চারিদিকে ম ম করছে দুর্নীতির গন্ধ! নথি পুড়ছে শুনেই ছুটে গেল CBI, ক্ষোভে জ্বলে উঠলেন নওশাদ

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে এখন অপারেশনের সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করাতে পারেন। শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালও তার ব্যতিক্রম নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্বাস্থ্য দফতরের তরফে হাসপাতাল চত্বরে সাফ লেখা রয়েছে 24 ঘন্টা সিজারের পরিষেবা পাওয়া যাবে। কিন্তু আদতে ছবিটা একেবারেই উল্টো। জানা যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়ান নেই। যার জেরে চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়েন এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁর আত্মীয়রা। অভিযোগ যেদিন অ্যানেস্থেশিয়ান থাকছেন না, সেদিন গর্ভবতী মহিলা হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে একটি মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ রোগী নিজের দায়িত্বেই হাসপাতালে ভর্তি  হচ্ছেন।

আরও পড়ুন :বিশ্ববিখ্যাত ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা তাপমাত্রা কমার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এখন প্রাণ ওষ্ঠাগত মানুষের

এ বিষয়ে শান্তিপুরের বাসিন্দা সুব্রত মৈত্র বলেন, “শান্তিপুরবাসীর একমাত্র ভরসার জায়গা এই স্টেট জেনারেল হাসপাতাল (Shantipur State General Hospital) । এখানে প্রচুর রোগী আসেন। বিশেষ করে প্রসূতি বিভাগ সবথেকে বেশি স্পর্শকাতর। আর সেই বিভাগে যদি অ্যানেস্থেশিয়ান না থাকেন তাহলে প্রসূতি চিকিৎসকের কোন কিছু করার থাকে না। অর্থাৎ জরুরি পরিস্থিতিতে অপারেশনের প্রয়োজন হলে রোগীকে  স্থানান্তরিত করতে হবে অন্য হাসপাতালে। সেই কারণে শান্তিপুরবাসী হিসেবে বলব যত দ্রুত সম্ভব নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়ান শান্তিপুরে নিয়ে আসা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো যাতে আরও ভালো করা যায় সে দিকেও নজর রাখার অনুরোধ করব।“ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছেন শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসক পবিত্র ব্যাপারি। রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দফতরকে কটাক্ষ করে এ বিষয়ে বিজেপি নেতা প্রসেনজিৎ দেউড়ি বলেন,  “গোটা রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি চলছে। চোরেদের সামলাতেই ব্যস্ত রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দফতর কিভাবে দেখবে?”