তৃণমূল নেতাকে স্কুলে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা হাতানোর অভিযোগ দলেরই কর্মীর বিরুদ্ধে

0
40

মালদহ: স্কুলে চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগে তীর বরাবরই তৃণমূল নেতাদের দিকে৷ এবার যেন উল্টো পুরাণ হল৷ এবার খোদ তৃণমূল নেতা নিজেই প্রতারণার শিকার হলেন৷ তাঁর কাছ থেকে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ যদিও ওই ব্যক্তিও তৃণমূল কর্মী৷ ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সাদলিচক এলাকা৷

সূত্রের খবর, তৃণমূলের সভাপতি তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য আরজাউল হক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন৷ তাঁর অভিযোগ, ২০১৯ সালে আপার প্রাইমারিতে চাকরির জন্য সুলতান নগরের বাসিন্দা মহিদুর রহমান ওরফে বাদলকে তিনি তিনটি দফায় মোট সাড়ে ১৪ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনও চাকরি। এমনকি টাকা ফেরত পর্যন্ত দেওয়া হয়নি তাঁকে। টাকা ফেরত চাইতে গেলে মিলছে হুমকি৷

- Advertisement -

আরজাউল হকের দাবি, মহিদুর রহমান তৃণমূল কংগ্রেস করেন। সেই সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। মহিদুলের বাবা মহম্মদ শাহজাহানের অভিযোগ, দোকান বিক্রি করে ঋণ নিয়ে তিনি ছেলেকে টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে মিলছে হুমকি। তিনি চান এই প্রতারকদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।

আরজাউল হক

দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুরি অভিযোগ, বাদল নামে যে ব্যক্তি টাকা নিয়েছে সে তৃণমূল কর্মী। কার্যত চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার ইন্ডাস্ট্রি বানিয়েছে তৃণমূল। এখন নিজের দলের লোকদের কাছ থেকেই টাকা নিচ্ছে তারা।

এই বিষয়ে রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘‘কেউ চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিলে সে কোন দল করে দেখা হবে না৷ প্রশাসন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’’ অভিযুক্ত মহিদুর রহমান ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করছেন আরজাউল হক। যদিও অভিযুক্ত বাদলকে বার বার ফোন করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।