আলো নিভিয়ে পড়ুয়াদের মারধর, অভিযোগের নিশানায় শিক্ষকরা

0
13

সুদেষ্ণা মণ্ডল, জীবনতলা: নিষেধাজ্ঞার পরেও ফোন ব্যবহার করল পড়ুয়ারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধল স্কুলে। ছাত্রদের মারধরের অভিযোগ উঠল আবাসিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। তার পাল্টা উত্তর দিতে স্কুলে ভাঙচুর চালিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। এমনই অভিযোগ তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষরা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলার কেন্দ্রীয় নবোদয় বিদ্যালয়ে। এই ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্র।

জীবনতলায় জহর নবোদয় কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্কুল ক্যাম্পাসের মধ্যেই কোনোরকম ফোন ব্যবহার করা যাবে না। যে সমস্ত আবাসিক ছাত্রছাত্রীরা রয়েছে তারাও ব্যবহার করতে পারবে না ফোন। স্কুলের এই নিয়মকে অমান্য করে কিছু সংখ্যক পড়ুয়ারা মোবাইল ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাধে ঝামেলা।

- Advertisement -

স্কুলের শিক্ষকদের দাবি, ছাত্রদের কাছ থেকে ৩৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনগুলি উদ্ধার করার পরে সেগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু কিছু ফোনকে জলে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফোন ভাঙচুর করার পর শিক্ষকরা কিছু ছাত্রদেরকে আলো নিভিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে অভিভাবকদের তরফ থেকে। এই ঘটনায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্র কম বেশি আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বেশ কিছু ছাত্ররা বেঞ্চ টেবিল ভাঙচুর করতে থাকে। স্থানীয় কিছু অভিভাবকরাও পৌঁছে যায় স্কুলের সামনে। বৃহস্পতিবার আরও অভিভাবকরা এসে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে স্কুলের আশপাশ থেকে ছুটে আসেন গ্রামবাসীর। তারপর তারা প্রাথমিকভাবে ছাত্রদেরকে মারধরের হাত থেকে বাঁচান।

অন্যদিকে অভিভাবক শতদল মণ্ডল বলেন, ফোন ব্যবহারটা শুধু একটু অজুহাত মাত্র। স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষকের আচার-আচরণ এবং ছাত্রদের সঙ্গে ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয় এবং ছাত্র-ছাত্রীরা এ নিয়ে অভিযোগ জানায়। আর তার জন্যই মূলত এই মারধরের ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তারা কোন কিছুই জানাতে অস্বীকার করেন।