বিসর্জনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত নবদ্বীপ, গ্রেফতার চার

0
178

নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া: দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুটি বারোয়ারি পুজোর মধ্যে গন্ডগোলের জেরে উত্তেজনা ছড়ায় নদিয়ার নবদ্বীপ থানার ফকিরডাঙ্গা ঘোলাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহিরচড়া ঘোষপাড়ায়। এই ঘটনায় মঙ্গলবার উভয় পক্ষের চারজনকে গ্রেফতার করেছে নবদ্বীপ থানার পুলিশ।

বুধবার ধৃতদের পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নবদ্বীপ আদালতে তোলা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দশমীর রাতে ফকিরডাঙ্গা ঘোলাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহিরচড়া ঘোষপাড়ার দুটি বারোয়ারী একটি তৃণমূল প্রভাবিত পুরনো ঘোষপাড়া বারোয়ারী অন্যটি বিজেপি প্রভাবিত নতুন ঘোষপাড়া বারোয়ারী। বিজয়া দশমীর দিন দুটি বারোয়ারীই তাদের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার জন্য ঘোষপাড়া গঙ্গার ঘাটে জড়ো হয়।

অভিযোগ বিজেপি প্রভাবিত নতুন ঘোষপাড়া বারোয়ারীর প্রতিমা বিসর্জনের হওয়ার পর তৃণমূল প্রভাবিত প্রতিমা বিসর্জন দিতে গেলে বাঁধা দেয় বিজেপির লোকজন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। ওই গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য গৌতম ঘোষ জানান, তাদের গ্রামে একটাই পুজো হত। গতবছর থেকে ওই গ্রামে নতুন করে পুজো শুরু করে বিজেপির কিছু লোকজন। বিধায়ক নন্দ সাহার উদ্যোগে গ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এই বছর দুটো পুজো হলেও গ্রামের মানুষজন ষষ্ঠী সপ্তমী দুদিন দুটি বারোয়ারী তলায় পুজোতে অংশ নিচ্ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন গ্রামে বিজেপি করেন হারাধন ঘোষ বিষয়টি ভালো ভাবে নেননি। অষ্টমীর দুপুরে মদ্যপ অবস্থায় হারাধন এবং তার ভাগ্নে এলাকায় জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে থাকেন। এমনকি জোরপূর্বক কিছু মানুষকে ভয় দেখিয়ে জয় শ্রীরাম বলানোর চেষ্টা করেন। এইভাবে হারাধন এবং তার ভাগ্নে শ্রীজীব ঘোষ ওরফে কটা উত্তেজনা সৃষ্টি করছিলেন। তাদের চল্লিশ বছরের পুজো হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী অনুদানের পঞ্চাশ হাজার টাকা পান।

অভিযোগ সেই পুজো মণ্ডপে গিয়েও হারাধন ঘোষ ভিখারির পুজো বলে বাজে মন্তব্য করতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন গ্রামের শান্তির কথা ভেবে সব কিছুই সহ্য করে নেন। এরপর দশমীর রাতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গেলে তারা বাঁধা সৃষ্টি করে প্রতিবাদ করলে চড়াও হয় এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশ থামানো চেষ্টা করে তাতেও অশান্তি থামানো যায়নি।

নবদ্বীপ থানার আইসি কল্লোল কুমার ঘোষের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। উত্তেজনা থামাতে গেলে অভিযুক্তরা পুলিশের কাজে বাধা দেয়। এরপরই উভয় পক্ষের চারজন দশরথ ঘোষ, নিবারণ ঘোষ, জীবানন্দ ঘোষ এবং লাল্টু ঘোষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প থাকলেও গ্রামে চলছে পুলিশি টহল। তবে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা হারাধন ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।