বাক্সবন্দী করে তাঁকে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন নবাব আলীবর্দী খাঁ

0
33
durga puja

মালদহঃ সাড়ে ৩০০ বছরের পুরনো কলিগ্রামের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো (durga puja)। রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা অলৌকিক কাহিনী। চাঁচোল শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলিগ্রামের কাঁসারী পাড়া। সেখানেই রয়েছে রায়চৌধুরীদের জমিদার বাড়ি।

জমিদারির পাট চুকেছে বহুকাল আগেই। জমিদারি নেই, প্রজা পালন নেই, জমিদারির ঠাটবাঁটও নেই। রয়ে গেছে কিছু স্মৃতি, জমিদার বংশের ঐতিহ্য। রায়চৌধুরীদের সঙ্গে রয়েছে নবাবি আমলের যোগ। পরিবারের সদস্যদের মুখ থেকে জানা যায়,প্রায় কয়েকশো বছর আগে এই এলাকায় রাজত্ব করতেন নবাব আলীবর্দি খাঁ। নবাবের এক বিশ্বস্ত নায়েব ছিলেন বদলরাম রায়চৌধুরী। একবার প্রচন্ড খড়ার সময় নবাবের কর আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বদলরাম। আর সেই অপরাধে নবাব আলীবর্দি খাঁ বদলরামকে সাজা দেন। তার সমস্ত শরীরে অজস্র চাবুক মেরে বাক্সবন্দী করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মহানন্দার জলে। আর এখানেই ঘুরে যায় বদলরামের ভাগ্যের চাকা। প্রাণনাশ হয়নি বদলরামের। নদীর পারে থাকা এক সন্ন্যাসী সেই বাক্স দেখতে পেয়ে আধমরা অবস্থায় উদ্ধার করেন বদলরাম রায় চৌধুরীকে। সন্ন্যাসীর সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। সেই সন্ন্যাসীর আশ্রমে থাকাকালীন একদিন দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে আদেশ করেন নবাব আলীবর্দী খাঁর সম্মুখীন হতে এবং তাঁকে যে পরগনা দান করা হবে সেই পরগনায় দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে। দেবী দুর্গার নির্দেশ মত নবাব আলীবর্দী খাঁর সামনে গিয়ে হাজির হন বদলরাম । তাঁকে জীবিত অবস্থায় দেখে, চক্ষুচড়কগাছ হয়ে যায় নবাবের। তবে গোটা ঘটনা জানার পর নবাব আলীবর্দী খাঁ বদলরাম রায়চৌধুরীকে পাঁচটি পরগনা দান করেন। সেই পাঁচটি পরগনার মধ্যে একটি পরগনা ছিল কলিগ্রাম পরগনা। আর সেখানেই কাছারিপাড়ায় দেবী দুর্গাকে প্রতিষ্ঠা করেন বদল রাম রায় চৌধুরী।

- Advertisement -

আজও বদলরাম রায়চৌধুরীর পরিবার দেবী দুর্গাকে পুজো (durga puja) হয়ে আসছেন পুরনো রীতি মেনেই। প্রতিপদের দিন থেকে শুরু হয়ে যায় দেবীর ঘট পুজো। দেবীকে এখানে এক চালায় ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। আর মা দুর্গার বাহন সাদা রংয়ের সিংহকে দেখা যায় অসুর বধ করতে। আগে এই পুজোয় পাঠাবলি প্রচলন থাকলেও বর্তমানে সেই প্রথা সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে। পাঠা বলির পরিবর্তে পরিবারের সদস্যরা মোহনভোগের আয়োজন করেন। অষ্টমীর দিন কুমারি পুজোর রীতি থাকলেও এইখানে হয় নবমীর দিন। দশমীর দিন সকালে দেবী দুর্গার সাথে গোটা রায় চৌধুরী পরিবার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। গোধূলি লগ্নে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয় কলিগ্রামের রাণী দীঘিতে।