পৃথক রাজ্য হতে চলেছে জঙ্গলমহল, জল্পনা উস্কে দিলেন বিজেপি সাংসদ

0
249

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বর্তমানে দেশের নানা এলাকায় নতুন রাজ্য গঠনের দাবিতে আন্দোলন চলছে। যেমন, মহারাষ্ট্র ভেঙে বিদর্ভ গঠনের দাবি, গুজরাত ভেঙে সৌরাষ্ট্রের মত রাজ্য গড়ার দাবি উঠছে। এবার পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গল মহল সহ রাঢ় বঙ্গকে নিয়ে আলাদা রাজ্যের দাবিতে সরব হলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

আরও পড়ুনঃ শ্রীনগরে গ্রেফতার লস্কর গোষ্ঠীর দুই ‘হাইব্রিড’ জঙ্গি, উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র

সোমবার বিষ্ণুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘আমরা জঙ্গল মহলের মানুষ বারবার ক্ষতিগ্রস্ত। জঙ্গল মহল সহ রাঢ় বঙ্গ বঞ্চিত। নেতা কেনা বেচা থাকবেই, কলকাতার বাবুরা নেতা কেনা বেচা করবেন। তাহলে ‘আলাদা বঙ্গ হলে ক্ষতি কি?’ এরপরেই সরাসরি তিনি বলেন, ‘আমার দাবি রইল বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, আসানসোলকে কলকাতার বাবুদের কাছে রাখার কোন মানে নেই।’ এই জেলা গুলোকে নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করলে ভালো হয়। এরপরেই উত্তরবঙ্গের কামতাপুরী ইস্যুর নাম না করে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গ যেমন ভাবতে শুরু করেছে তেমন আমাদের এলাকাতেও জঙ্গল মহল রাজ্য কেন চাইবোনা?’

এদিন, সৌমিত্র খাঁ এস.এস.সি দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, ‘চতুর শেয়ালের খপ্পরে পড়ে’ পশ্চিম বঙ্গের বেকার সম্প্রদায় ও মানুষের অবস্থা খারাপ। ২০১৯ সালে ‘এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কারচুপি’ হচ্ছে বলে দল ছেড়েছিলাম। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা ‘চতুর ভাইপো’ তুলেছে। আজ হাইকোর্টের মাধ্যমে তা অনেকটাই পরিস্কার বলে তিনি দাবি করেন।

বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের এই আলাদা রাজ্যের দাবিকে ‘মস্তিস্ক বিকৃতি’ ও ‘সংবাদ শিরোনামে’ আসার চেষ্টা বলে দাবি তৃণমূলের। এই বিষয়ে দলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা বলেন, ‘মাঝে মাঝেই ওনার মাথায় বিকৃতি ঘটে ও খবরে আসার জন্য এই ধরণের বিবৃতি উনি দেন। মানুষের উন্নয়ন, রাজ্যের উন্নয়ন, দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব পালন বিজেপির নেতা নেত্রী, সাংসদরা করছেননা। মানুষকে দিকভ্রান্ত করার জন্য এসব বলছেন। এখন হয়তো কোনও বিজেপি নেতা একটি মহকুমা, একটি ব্লক বা অঞ্চলকেও আলাদা রাজ্যের দাবি করতে পারেন বলেও তিনি মনে করছেন বলে জানান।