জমি আন্দোলনের পরেই ঘরছাড়া, এবার লাল পতাকা হাতে চাষের কাজ শুরু কৃষকদের

0
126

মিলন পণ্ডা, খেজুরি : গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই কার্যত অক্সিজেন ফিরে পেল CPIM। জমিতে লালঝাণ্ডা হাতে নিয়ে চাষের কাজ শুরু করল একাধিক কৃষক পরিবার। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের পর থেকে ঘরছাড়া একের পর এক কৃষক পরিবার থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। শুধু নন্দীগ্রাম নয় খেজুরি সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক পরিবার ঘরছাড়া হন। ২০২২ সালে ঘরছাড়া বাড়ি ফিরে জমি ফিরে পেয়ে খুশি একাধিক কৃষক পরিবার। খেজুরির দক্ষিণ কলমদানে দীর্ঘ ১৩ বছর পর কয়েকজন গরিব চাষি তাঁদের দখল হওয়া জমি ফিরে পেলেন।

- Advertisement -

মঙ্গলবার সিপিএমের কৃষক সংগঠন কৃষক ও খেতমজুর কমিটির নেতাদের উদ্যোগে ওই গ্রামে রাসবিহারী মাইতি সহ পাঁচজন চাষি তাঁদের ১ একর ২৯ ডেসিমিল জমি পুনর্দখল করেন। তাঁরা সহ লালঝাণ্ডা কাঁধে নিয়ে ওই জমিতে চাষের কাজও করেন একাধিক কৃষক পরিবার। সিপিএমের দাবি, ২০০৯ সালে তৃণমূলের লোকজন খেজুরির বিভিন্ন প্রান্তে সিপিএম কর্মী-সমর্থক পরিবারের লোকজন ভয় দেখিয়ে, মারধর করে জমি দখল করেছিল। দক্ষিণ কলমদানেও একইভাবে জমি দখল করা হয়। তারপর ১৩ বছর ধরে তৃণমূলের লোকজন সেই জায়গা ভোগদখল করে আসছিল।

আরও দাবি, গোলাগুলি, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খেজুরি দখলে নেমে পড়ে তৃণমূলী জল্লাদ বাহিনীরা। সন্ত্রাস নামিয়ে বহু মানুষকে ঘরছাড়া, মারধর, খুন, বাড়ি ভাঙচুর, ঘর পুড়িয়ে দেওয়া থেকে লুটপাট, জরিমানা ও মহিলাদের সম্মান নষ্টর পাশাপাশি জোরপূর্বক জমি দখল করে রাখে। পাট্টাদারদের জমি বেদখল করে নেয় লুটেরা বাহিনীরা।

খেজুরির সিপিআইএম নেতা তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য হিমাংশু দাস বলেন ” বর্তমানে তৃণমূলের লুটের রাজনীতির বিরুদ্ধে দিকে দিকে মানুষ সরব হচ্ছেন। সিপিআইএমের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে বেদখল জমি আর বঞ্চিত মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার। প্রতিবাদী মানুষজন বঞ্চিতদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে একজোট হয়েছেন। এটা তারই প্রতিফলন “।

ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য বিমান নায়ক বলেন ” সিপিআইএমই একটা সময় খেজুরিতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস চালাত। তারাই জমি দখল করত। পরবর্তীকালে মানুষ সিপিআইএমের দখলের রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। জনরোষে অনেকে জমিজমা ফেলে ঘরছাড়া হয়। তারাই হয়তো জমি ফিরে পেয়েছেন। এখানে তৃণমূলের কোনও ভূমিকা নেই “।