বিয়ের ১৭ বছর পরেও অত্যাচার, সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী বধূ

0
151

খাস প্রতিবেদন: প্রায় দেড় যুগ সংসার করা হয়ে গিয়েছে৷ সংসার নয়, শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন৷ কিন্তু আর পারল না মেয়েটা৷ অত্যাচারের ধকল নিতে না পেরে বাধ্য হল আত্মহত্যা করতে৷ এমনই দাবি নিহত বধূর বাপের বাড়ির৷ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে পুলিশ ওই বধূর স্বামী, শাশুড়ি ও দেওরকে গ্রেফতার করেছে৷ ঘটনার জেরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনগাঁ থানার জয়পুর সংলগ্ন এলাকায়।

অভিযোগের তীর গৃহবধুর স্বামী , শাশুড়ি ও তার দেওরের বিরুদ্ধে । ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে বনগাঁ থানায় । অভিযুক্ত স্বামী সুদীপ্ত সাহা ও শাশুড়ি মালা সাহা কে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ । পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আনুমানিক ১৭ বছর আগে বনগাঁর শক্তিগড় এলাকার বাসিন্দা শম্পা সাহার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল এলাকার বাসিন্দা সুদীপ্ত সাহার । অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গৃহবধুর উপর অত্যাচার করত তার স্বামী , শাশুড়ি ও দেওর। একাধিকবার বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ ও তৈরি করা হতো গৃহবধুর উপর৷ পাশাপাশি গৃহবধূর স্বামী সুদীপ্ত সাহা বিয়ের পর থেকেই অন্যান্য মহিলাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন বলেও সরব হয়েছেন নিহত বধূর বাপের বাড়ির লোকজন৷

- Advertisement -

অভিযোগ, একদিকে স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন৷ এই দুই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন ওই গৃহবধূ । পরিবার সূত্রে এও জানা যায়, সকাল বেলায় আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ গৃহবধূর স্বামী সুদীপ্ত সাহা গৃহবধুর বাপের বাড়িতে গিয়ে জানান যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। গৃহবধূর মা লক্ষ্মী ঘোষ মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান তার মেয়ে লাল বেনারসি ও সোনার গহনা পড়ে তার বিছানায় পড়ে আছে । সেই সময় গৃহবধুর মা তাকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহবধুর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ থানার পুলিশ৷ ঘটনার জেরে এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য৷

আরও পড়ুন: ১১ বছরের ছেলেকে ছাদ থেকে ঝোলাল বাবা, নিন্দায় মুখর প্রতিবেশীরা