শান্তিনিকেতনের শিশু খুনের মূল অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি, প্রকাশ্যে এল ভিডিও

0
30

বীরভূম : বিস্কুট কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুর দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শান্তিনিকেতনে। ঘটনায় মূল অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি সামনে আসতেই ফের শুরু হয়েছে চর্চা। মুল অভিযুক্ত রুবি বিবি নিজেই এই শিশু খুনের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। গ্রেফতারের পরে তাকে পুলিশের গারীতে তলার সময়েই একের পর এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলেছে রুবি বিবি।

ওই শিশুকে মারার কারণ কি? মারার কি দরকার ছিল? বাচ্চাটাকে আগলালো কে? এইসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে রুবি বিবি। পুলিশের গাড়িতে উঠতে উঠতেই জানিয়েছে, সঞ্জীব তার কাছে ওই শিশুটিকে এনে দিয়েছিল। বাচ্চাটাকে সে আগলায়নি, সঞ্জীব এনে দিয়েছিল তার কাছে। ফের প্রশ্ন করা হয়, না মেরে ছেড়ে কেন দেওয়া হয়নি? এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই সে জানায়, তার মাঝেই ওই শিশুকে খুন করে সে। তবে এই বক্তব্যের ভিত্তিতে যে নাম আসছে তার খোঁজ এখনও পুলিশের কাছে নেই। পুলিশ জানে না কে এই সঞ্জীব! তবে রুবি বিবির এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিন্তু তার সত্যতা কতখানি তা যাচাই করেনি খাস খবর।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, বাড়ির পাশের একটি মুদির দোকান থেকে বিস্কুট কিনতে গিয়েছিল সে। এরপরে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। চারপাশে তার খোঁজ চালানো হয়। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজ করেও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ রীতিমতো তল্লাশি চালায়, এমনকি কুকুর এনেও তল্লাশি করা হয়। অবশেষে নিখোঁজের ৫২ ঘন্টা পরে প্রতিবেশীর ছাদ থেকে উদ্ধার করা হল ওই শিশুর দেহ। এরপরেই ওই প্রতিবেশীর বাড়িতে ভাঙচুর চালাতে শুরু করে স্থানীয়রা। ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হয় পুলিশ। ওই অভিযুক্ত প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শান্তিনিকেতনের মোলডাঙা গ্রামে। মৃত ওই শিশুর নাম শিবম ঠাকুর।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই শিশুর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের পুরনো বিবাদ বর্তমান ছিল। শিশুটির পরিবারের সেলুন ছিল। সেখানেই কাজ করত অভিযুক্ত প্রতিবেশী যুবক। গ্রামেরই এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অভিযুক্তের। সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবার বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিল। সেই থেকেই পুরনো ক্ষোভ ছিল অভিযুক্তের। আরও জানা গিয়েছে, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।