কংগ্রেস বিধায়ক ও কর্মীকে মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

0
231

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: কংগ্রেস বিধায়ক সহ আরও দুই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান সহ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে৷ ঘটনাস্থল মুর্শিদাবাদের ভরতপুর৷ পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি গিয়ে তাঁদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া নিয়ে দুই দলের বিরুদ্ধে ঝামেলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সালার থানার তালিবপুরে ভরতপুরের কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় সহ কংগ্রেস কর্মীরা এলাকার পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফিরে আনার জন্য খোঁজ খবর নিতে যান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শ্রমিকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে গেলে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান রবি শেখ সহ তৃণমূল কর্মীরা কংগ্রেস বিধায়ক সহ আরও পাঁচ কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। কংগ্রেস কর্মী সবুজকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে ভরতি করা হয়।

- Advertisement -

ভরতপুরের কংগ্রেস বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমরা সকালবেলা তালিপুর এলাকায় কারা কারা বাইরে কাজ করতে গিয়েছিলেন তার খোঁজ খবর নিতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম তালিবপুর এলাকায় প্রচুর শ্রমিক এখনও বাইরে আছেন। তাদের নাম সংগ্রহ করে ফেরার পথে তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান রবি শেখ সহ তৃণমূল কর্মীরা আমাদের পথ আটকান।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এরপরই জিজ্ঞাসা করেন যে কি করতে আমরা এসেছিলাম। আমরা বলি যে পরিযায়ী শ্রমিক যারা যারা এখনও বাইরে আছেন তাদের নাম সংগ্রহ করে পাঠানোর জন্য এসেছিলাম। এই বলা মাত্রই আমাদের ওপর চড়াও হন তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান সহ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। প্রথমে আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়৷’’

কংগ্রেস বিধায়কের কথায়, ‘‘শুধু তাই নয় আমাদের কর্মী সবুজ শেখ সহ পাঁচজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। সবুজ সহ বাকি কর্মীরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি রয়েছেন৷ আমি সালার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। সালার থানার অফিসার ইনচার্জ আশ্বস্ত করেছেন দুষ্কৃতীরা খুব তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে৷’’

অপরদিকে এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের সহ-সভাপতি অশোক দাস জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের কোন যোগ নেই৷ এই মারধরের ঘটনা নিয়ে জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাসের বক্তব্য, ‘‘তালিবপুর যখন আমাদের বিধায়ক কমলেশ চট্টোপাধ্যায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে শ্রমিকদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন৷ ঠিক তখন তালিবপুর পঞ্চায়েত প্রধান রবি শেখ ৪০ থেকে ৪৫ জন দুষ্কৃতীদের নিয়ে বিধায়ক এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।’’

তিনি জানান, তাঁর সঙ্গে সেই সময় নিরাপত্তারক্ষী ছিল না৷ কারণ তিনি জানতেন না এই লকডাউনের মধ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসের হার্মাদ বাহিনী তাঁকে মারবে বলে অপেক্ষা করছে। সাব ডিভিশন থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের এই ঘটনার তদন্তের কথা বলেছি৷