সাক্ষাৎ দেবদূত: জন্মদিনেই মাঝ সমুদ্রে আটকে থাকা মৎস্যজীবীদের নতুন জীবন দিলেন মৎস্যমন্ত্রী

আরও জানা গিয়েছে, গত ৫ দিন আগে কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের ছনবেড়িয়া গ্রামের মনি গিরি "মা শীতলা ট্রলার" মাছ ধরাতে পেটুয়া মৎস্যবন্দর থেকে মৎস্য শিকার করতে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন।

0
327

কাঁথি: অতীতে তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন৷ কিন্তু মন্ত্রিত্ব কখনও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি৷ একুশের বঙ্গ ভোটে জয়ের দৌলতে এবার একেবারে দিদিমণির মন্ত্রিসভায় ঠাঁয় পেয়েছেন তিনি। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী হয়েছেন অখিল গিরি। তিনি এবার ত্রাতার ভূমিকায় মৎস্যজীবীদের কাছে হাজির হয়েছেন। উল্লেখ্যভাবে আজ রবিবারেই তাঁর জন্মদিন। জন্ম দিনের দিনেই তিনি ১২ মৎস্যজীবীদের সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নতুন জীবন দিয়েছেন।

উপকূলবর্তী মানুষের পেশাই হল মৎস্য  শিকার করা। জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রাণ বাজি রেখেও মাঝ সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন মাছ ধরতে। জানা গিয়েছে তেমনি ১২ জন মৎস্যজীবী ট্রলার ইঞ্জিন নিয়ে মাঝ সমুদ্রে গিয়েছিলেন। কপাল খারাপ থাকলে যা হয় সেটাই হয়েছিল তাঁদের সঙ্গে। মৎস্য শিকারে বেরিয়ে ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝ সমুদ্রে। তাতেই আটকে পড়েন তাঁরা। বিষয়টি জানতে পেরে প্রাক্তন জেলা পরিষদের সভাধিপতি মামুদ হোসেন ও আঁউরাই অঞ্চলের উপপ্রধান দেবাশীষ ভূঞ্জ্যা যোগাযোগ করেন মৎস্যজীবীরা। এরপর বিষয়টি মৎস্যমন্ত্রীকে জানানো হয়। সেই খবর পেয়েই দ্রুত মৎস্যজীবীদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন- গরু-মুরগী বোঝাই গাড়ি দেখলেই আটক , স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে ‘তোলাবাজ পুলিশ’

আরও জানা গিয়েছে, গত ৫ দিন আগে কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের ছনবেড়িয়া গ্রামের মনি গিরি “মা শীতলা ট্রলার” মাছ ধরাতে পেটুয়া মৎস্যবন্দর থেকে মৎস্য শিকার করতে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিলেন। শনিবার রাতে উপকূল থেকে ৭০ মাইল দূরে হঠাৎ ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। সঙ্গে মরার উপর খাঁড়ার ঘা দিতে হাজির হয়েছে নিম্নচাপ। নিম্ন চাপের প্রভাবে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস তীব্র। এই জোড়া বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন ট্রালারে থাকা ১২ জন মৎসজীবি। ঠিক সেই সময়েই দেবদূতের ভূমিকা নেন অখিল গিরি।

আরও পড়ুন- ‘বাংলাতেই ভুয়োর ছড়াছড়ি’, ভুল বিজ্ঞাপন নিয়ে যোগীর পাশে বঙ্গ বিজেপির নেতারা

অখিল গিরি তৎপরতায় অন্য একটি উপকূল রক্ষীদের জাহাজে করে মাঝ সমুদ্র থেকে ১২ জন মমৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়। জীবন বাঁচে ১২ জন মৎস্যজীবীর। মাঝ সমুদ্রে বিপদে পরা মানে নিশ্চিত মিত্যু। জমের হাত থেকে মৎস্যজীবীদের ফেরানোর পর প্রাক্তন সরকারী সভাধিপতি মামুদ হোসেন বলেন, “রবিবার মৎস্যমন্ত্রী অখিল গিরির জন্মদিন। ওই দিনের ১২ জন মৎস্যজীবী প্রাণ বাঁচালেন মন্ত্রী। মৎস্যজীবি থেকে মন্ত্রী এই দিনটি সারাজীবন মনে রাখবেন।”