দুয়ারে সরকারে পদবি পরিবর্তন করতে চেয়ে মানুষ থেকে কুকুর বনে গেলেন ব্যক্তি

শ্রীকান্তি দত্তের রেশন কার্ডে পদবি ভুল ছিল। সেটি সংশোধন করতে গিয়েই সমস্যার সূত্রপাত৷ দত্ত থেকে প্রথমে মণ্ডল৷ ফের সংশোধনের জন্য দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে হাজির হলে কুমার৷ সেখান থেকে বনে গেলেন 'কুত্তা' (কুকুর)!

0
192

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ধোপ দূরস্ত পোশাক, হাতে ব্যাগ আর গাদা গুচ্ছেক কাগজ নিয়ে প্রায় বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি সরকারি এক আধিকারিকের গাড়ির দরজায় মুখ রেখে সমানে ভূউউউউ-ক-ভূউউউ-ক-ভূ-ভূউউউউউ-ক করে যাচ্ছেন! ‘দুয়ারে সরকার’ (Duare sarkar) ক্যাম্পে এই দৃশ্য দেখে স্বভাবতই বিস্মিত অনেকেই। খানিক হতবাকও! আর এই পরিস্থিতিতে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা ওই সরকারি আধিকারিকের! যেন কোনওরকমে এই জায়গা থেকে বেরিয়ে যেতে পারলে বেঁচে যান তিনি!

ঘটনাটা কি? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, বাঁকুড়া-২ নম্বর ব্লকের বিকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের কেশিয়াকোল গ্রামের বাসিন্দা শ্রীকান্তি দত্তের রেশন কার্ডে পদবি ভুল ছিল। সেটি সংশোধন করতে গিয়েই সমস্যার সূত্রপাত৷ দত্ত থেকে প্রথমে মণ্ডল৷ ফের সংশোধনের জন্য দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে হাজির হলে কুমার৷ সেখান থেকে বনে গেলেন ‘কুত্তা’ (কুকুর)! স্বভাবতই, এমন রেশন কার্ড হাতে পেয়ে যারপরনাই বিব্রত ও অসম্মানিত বোধ করেছেন তিনি৷ এরই প্রতিবাদে বিকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে জয়েন্ট বিডিও পরিদর্শনে এলে তাঁর সামনে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ ডাকে রব তোলেন তিনি৷

- Advertisement -

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে শ্রীকান্তি দত্ত নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন খাসখবরের কাছে, ‘‘রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম, প্রথম পর্যায়ে যখন রেশন কার্ড হাতে পাই তখন দেখি আমি শ্রীকান্তি দত্ত হয়ে গেলাম শ্রীকান্ত মণ্ডল। সংশোধনের আবেদন করে আমি হয়ে গেলাম শ্রীকান্ত কুমার দত্ত। ফের দুয়ারে সরকারে গিয়ে সংশোধনের আবেদন করলাম। এরপর আর মানুষ নয়, হয়ে গেলাম কুকুর! শ্রীকান্তি দত্তের জায়গায় শ্রীকান্তি কুমার কুত্তা। এই ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি।’’ দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে জয়েন্ট বিডিও কে হাতের কাছে পেয়েও দত্ত কি করে কুত্তা হয় এই প্রশ্ন তাঁর কাছে রাখলেও তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে এলাকা ছাড়েন বলে শ্রীকান্তি বাবু দাবি করেন।

এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ শ্রীকান্তি দত্তের মা হীরা দত্ত। তাঁদের ‘সামাজিক ‘সম্মানহানি’ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ কাজে ‘চুক্তিভিত্তিক আর অশিক্ষিত’ কর্মী নিয়োগের ফলেই এই ঘটনা ঘটছে। আর যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাঁদের মতো সাধারণ মানুষকে। আমার ছেলের আমি একটা নাম রেখেছি। দোকান করে ছেলে সংসার চালায়৷’’, আর এই ঘটনায় শতগুণ সম্মাণহানি হয়েছে বলে তিনি জানান। বস্তুত, দুয়ারে সরকারের (Duare sarkar) ক্যাম্প নিয়ে এমন হাজারও অভিযোগ রয়েছে জনমানসে৷ যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷ বরং সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে জনমানসেও তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া৷

আরও পড়ুন: নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এবার কোণঠাসা শাসকের অস্ত্র দিলীপ ঘোষ, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য