দিদির রাজত্বে তৃণমূল নেত্রী সহ ৩০ টি পরিবার ‘ঘরছাড়া’

0
46

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এযেন উল্টো পুরাণ৷ এরাজ্যে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল৷ পাশাপাশি ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের প্রতিটি স্তরেই নিজেরা ক্ষমতায় রয়েছে৷ তারপরেও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঘরছাড়া৷ তাঁর সঙ্গে আরও ৩০ টি পরিবারেরও একই অবস্থা৷

নিজের দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ভিটেমাটি ছেড়ে এখন বিষ্ণুপুরের এক অস্থায়ী ঠিকানায় বাস তাসমিনা খাতুন সহ ৩০ টি পরিবারের৷ ফলে উন্নয়নের কাজ ‘স্তব্ধ’ উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে। সাধারণ একটি শংসাপত্রে সই করাতে হলেও ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষকে প্রধান তসমিনা খাতুনের বিষ্ণুপুরের অস্থায়ী ঠিকানায় আসতে হচ্ছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে বৈ কমছে না। আর একবছর পরে পঞ্চায়েত ভোট, তার আগে এই ঘটনায় বেজায় অস্বস্তিতে শাসক শিবির।

‘ঘরছাড়া’ প্রধান তাসমিনা খাতুনও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রায় দু’বছর ঘরছাড়া, বাড়ি যেতে চাই। সামনে ভোট। পঞ্চায়েতে মানুষ প্রধানকে পেলে ভোটটাও দেবে। প্রশাসন বাড়ি ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছে, এটুকুই। এখন ছেলের টোটো চালিয়ে যা রোজগার হয় ও প্রধান হিসেবে পাওয়া ভাতা থেকেই কোন রকমে সংসার চলছে৷’’

‘ঘরছাড়া’ শামসুর আলি পাশোয়ানের কথায়, শুধু প্রধান নন, একসঙ্গে দুই পঞ্চায়েত সদস্য, বুথ সভাপতি, যুব সংগঠনের ব্লকের সহ সভাপতি ও তাদের পরিবার ঘরছাড়া। শাসক দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এই অবস্থা বলে তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ আগস্ট খুন হন উলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান, বেলিয়াড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা, তৃণমূল নেতা বাবর আলি শেখ। আর ওই ঘটনায় নাম জড়ায় বর্তমান প্রধান তাসমিনা খাতুনের স্বামী ও তৃণমূল নেতা রহিম মণ্ডলের। তিনি সেই সময় গ্রেফতার হন। আক্রমণের ভয়ে ওই ঘটনার পর থেকেই পরিবারগুলি ঘরছাড়া বলে জানা গিয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল নেতা শুভাশিস বটব্যাল বলেন, ‘‘আমরা চাই শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক, সবাই মিলে মিশে থাক। বিষয়টি প্রশাসন দেখবে। ওখানকার মানুষ প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে, আমরাও করবো। প্রশাসন সতর্ক আছে, কোন ঝামেলা নেই। খুব শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে৷’’