৩ বছরের ভাগ্নেকে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সৎ মামার

0
290

নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁথি: ১৩ বছর মামলা চলার পর সাড়ে তিন বছরের ভাগ্নেকে খুন(Nephew Murder) করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় সৎ মামাকে দোষী ঘোষণা করল আদালত। সৎ মামাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কাঁথি আদালত। বুধবার কাঁথির আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক (সেকেণ্ড কোর্ট) ড. মৌমিতা ভট্টাচার্য সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত সৎ মামা গণেশ প্রামাণিক। তার বাড়ি খেজুরি থানার বাঁশগোড়া এলাকায়।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরির দেউলপোতা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় রিক্সা চালক সুবল প্রামাণিকের তিন ছেলে। তাঁর প্রথম স্ত্রী ক্যান্সারে ভুগে মারা যাওয়ার পর ছেলেদের কথা ভেবে তিনি আবার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ে করতে গেলে ভগ্নিপতিকে বাধা দেয় শ্যালক তথা পেশায় ব্যবসায়ী গণেশ প্রামাণিক। তার মনে হয়েছিল, সুবল আবার বিয়ে করলে তাঁর প্রথম পক্ষের অর্থাৎ মৃত দিদির ছেলেরা সম্পত্তির ভাগ বা সবকিছু থেকে বঞ্চিত হবে। দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানই সব পেয়ে যাবে। কোনওমতেই সে ভগ্নিপতির দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে রাজি ছিল না। সুবল শ্যালককে বোঝান। শেষ পর্যন্ত বিয়েতে মত দেয় গণেশ। তবে ভগ্নিপতির সঙ্গে সে শর্ত করে, সুবল আবার বিয়ে করতে পারে, কিন্তু কোনও সন্তান নিতে পারবে না। সুবল শ্যালকের শর্তে রাজিও হন এবং বিয়েও করেন। তবে পরবর্তীকালে বিয়ের পর সুবলের দ্বিতীয় স্ত্রী সন্তানের জন্ম দেন। তার নাম পথিক প্রামাণিক। সুবল তাঁর শর্ত অমান্য করেছেন দেখে বেজায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গণেশ। এরপর থেকে‌ই সে সৎ ভাগ্নেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষতে থাকে।

- Advertisement -

২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন করে গণেশ প্রামানিক। ভগ্নিপতির পরিবারকে পুজোয় আমন্ত্রণ করে। বাড়ি সংলগ্ন একটি মন্দিরের সামনে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। রাতের বেলায় ঘটোত্তলনের সময় সকলে তখন ব্যস্ত। সবার অজান্তে বাড়িতে এসে সাড়ে তিন বছরের পথিককে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায় গণেশ। ফাঁকা জায়গায় সৎ ভাগ্নেকে অমানবিকভাবে মারধর করে। তাকে শ্বাসরোধ করে খুনের(Nephew Murder) পর স্থানীয় একটি প্রতিবেশীর পুকুরে শিশুর দেহটি ফেলে দেয়। সৎ ভাগ্নেকে খুন করে এসে যথারীতি পুজোয় বসে এবং সাবলীলভাবে সব কাজ সম্পন্ন করে গণেশ। এরপরই পথিককে বিছানায় দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা-বাবা সহ বাড়ির লোকজন। তার খোঁজে আশেপাশের পুকুরগুলিতে জালও ফেলা হয়। সকলে লক্ষ্য করেন, প্রত্যেকেই পথিককে পাগলের মতো খোঁজাখুঁজি করলেও আশ্চর্যজনকভাবে একমাত্র গণেশের এ নিয়ে কোনও হেলদোলই ছিল না। গণেশের এহেন আচার ও আচরণ দেখে সকলেরই মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহের বশেই পরদিন রাতে তাকে বাঁশগোড়া বাজারে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও তার ভগ্নিপতির বাড়ির লোকজন। মারধর এবং প্রবল চাপের মুখে শেষমেশ গণেশ স্বীকার করে, সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার একদিন পর সকালে প্রতিবেশীর পুকুর থেকে পথিকের দেহটি উদ্ধার করা হয়। এরপর সুবলের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গণেশকে গ্রেফতার করেছিল। মামলা চলাকালীন জামিনে মুক্ত ছিল গণেশ প্রামানিক।

মঙ্গলবার অভিযুক্ত গণেশ প্রামাণিককে ভারতীয় দণ্ডবিধি ৩০২ ও ২০১ নং ধারায় দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর অভিয়ুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। বুধবার ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নং ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০১ নং ধারায় সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত ছয়মাস কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই মামলায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন কাঁথি আদালতের বিচারক।