এক পায়ে দুই কিমি হেঁটে মনোনয়ন জমা বাম প্রার্থীর

ভোটে জিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কাজ করতে চান তিনি

0
188

খাস খবর ডেস্ক: কথায় আছে ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবকিছুই সম্ভব। এবার বিধানসভা ভোটে এসইউসিআই এমন একজনকে প্রার্থী করেছেন,যিনি ফুটবল খেলতে গিয়ে আঘাত পেয়ে একটি পা হারিয়েছেন৷ এক পায়ে দুই কিমি হেঁটে মনোনয়ন জমা দিয়ে নজির গড়লেন কালীচরণ এক্কা৷

আরও পড়ুন:হুডখোলা গাড়িতে চেপে মনোনয়ন জমা দিলেন কৌশানি

একুশের ভোটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন বিধানসভার এসইউসিআই প্রার্থী কালীচরণ এক্কা। অদম্য মনের জোরের বলেই এক পায়ে ২ কিলোমিটার হেঁটে মনোনয়ন জমা দিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, প্রার্থী হওয়ার পর থেকে কালীচরণ সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় এক পায়ে হেঁটেই প্রচার করছেন৷ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটছেন তিনি।

আরও পড়ুন: একুশে ভোট: নন্দীগ্রামে ১৪৪ ধারা!আকাশ পথে নজরদারি

কালীচরণ এক্কা বলেন, ‘আমি প্রতিদিন ১০ কিলোমিটারের বেশি হাঁটাচলা করি। এভাবেই ভোচপ্রচার, মনোনয়ন জমা দিয়েছি।’ তিনি আরও জানান, ভোটে জিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কাজ করতে চান তিনি। একইসঙ্গে, পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করতে চান বলে দাবি করেন এই প্রার্থী।

বেশ কয়েক বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে এক পায়ে আঘাত পান কালীচরণবাবু।তিনি আঁচ করতে পারেননি যে ফুটবল খেলতে গিয়ে জীবনের উপর বড় বিপদ নেমে আসবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে বাদ দিতে হয় তাঁর ডান পা। এদিকে টানাটানির সংসারে একটি হুইলচেয়ার কিনতে পারেননি৷ সরকারের কাছে আবেদন করেও হুইলচেয়ার পাননি, এরকমই অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকেই এক পা এবং একটি লাঠির উপর ভর করেই যাবতীয় কাজ করেন তিনি। এমনকি এক পা এর ওপর ভর করে কৃষিকাজ করে সংসার চালান তিনি। এবার ভোটের ময়দানে কালীচরণ৷

আরও পড়ুন: মৃতদেহ নিয়ে টানাটানি বিজেপি-সিপিএমের

একদিকে যখন অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় চাঁদের হাট, বাজনা, তাক লাগানো আয়োজন, হইহই রইরই রব, তখন সেই দিকে গাড়ি, হুডখোলা জিপ তো দুরস্ত রিকশাও নেননি কালীচরণ। হুইলচেয়ারও সাধ্যে কুলোয়নি, এক পা আর ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করে একপায়ে দুই কিলোমিটার হেঁটেই জমা মনোনয়ন দিয়েছেন ।

বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতি এখন সরগরম। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে এবার হিংসা রুখতে তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। একুশের লড়াইয়ে বাংলার কুর্সি শেষমেশ কে দখল করবে এই নিয়ে অধীর আগ্রহে রয়েছে রাজ্যবাসী। যার উত্তর মিলবে আগামী ২ মে।