বিশ্বকাপ, অলিম্পিকের দেশের মানুষ এখন অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন 

0
425

শান্তি রায়চৌধুরী: লাতিন আমেরিকার আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক সবদিক থেকে বৃহৎ দেশ ব্রাজিল। মন্দা পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের অর্থনীতি এখনও বলা যায় টালমাটাল। এরপর করোনার কারণে ব্রাজিলের অর্থনীতি আরো বিপর্যস্ত। প্রায় কুড়ি কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে এখনো পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করছে দারিদ্র্য সীমার নিচে। মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি জাইয়া বলসেনারো সরকার। মুদ্রাস্ফীতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া এবং ক্রমাগত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ব্রাজিলের মত বৃহৎ দেশটিকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে।

এমনই এক পরিস্থিতির মধ্যে ৫ বারের ফুটবল বিশ্বকাপজয়ীর দেশে হয়ে গেছে অলিম্পিক, বিশ্বকাপের মতো আসর। ফুটবল পাগল দেশটিতে এত বড় একটা টুর্নামেন্ট করার জন্য হয়েছিল অনেক সমালোচনা। প্রশ্ন ছিল, প্রতিনিয়ত দেশটির জনগণ সংগ্রামে লিপ্ত, সেখানে তাদের সামনে বিনোদনের সুযোগ কোথায়? ব্রাজিলের বিখ্যাত ক্রীড়ালেখক ধারাভাষ্যকার ইউকা কাফুরির মন্তব্যেই ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে। বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “আমাদের এখনো উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকতে হয় এবং সমুদ্রের নোনা জলে মাছের ডিম খেয়ে ঢেকুর তুলতে হয়। তখন আমরা কিভাবে একটার পর একটা ইভেন্টে আনন্দ-উচ্ছ্বাস কিংবা ফুর্তি করে বেড়াব? তবে এই অবস্থার মধ্যেও ব্রাজিল ভালোভাবে টুর্নামেন্টগুলো করেছিল।”

 

আরও পড়ুন: বিগ বসের বাড়িতে সাইমন্ডসের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব হয়েছিল সানি লিওনের

বিশ্বকাপ, অলিম্পিক আয়োজনের যখন অধিকার অর্জন করেছিল ব্রাজিল, তখন তারা সত্যি খুশি হতে পারেনি। কারণ, নতুন শতাব্দীর প্রথম দশক এমনিতেই কেটে গেছে রাজস্ব আয়ের ঊর্ধ্বগতির সম্ভাবনা চাহিদা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এতসবের মধ্যেও দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় ব্রাজিল সরকারকে। আর দ্বিতীয় দশকে এসে এসব কিছুই কিছুটা ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলেছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং ক্রমাগত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে যাওয়াকে। তবে এতকিছু সত্বেও খেলা পাগল সমর্থকেরা এবং সরকার টুর্নামেন্ট গুলোকে সফল করেছে।