কাবুল ফুটবল স্টেডিয়ামে এখনও মানুষ ঢুকতে ভয় পায় 

0
28

শান্তি রায়চৌধুরী: আফগানিস্তানের কাবুলের ফুটবল স্টেডিয়াম। যে স্টেডিয়ামে বসে মানুষ এখনো খেলা দেখতে ভয় পান! কারণ কয়েক বছর আগে এই স্টেডিয়ামে ম্যাচ খেলার চেয়ে জনসাধারণের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার মাঠ হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। এই স্টেডিয়ামে দোষীদের তালিবানের সামনে নতজানু হতে বাধ্য করা হতো এবং তারপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। মৃত্যু দন্ডটা এরকম ভাবেই দেয়া হত। দণ্ডিতদের অস্ত্র দিয়ে পা কেটে তারপর তাকে ফুটবল মাঠের পোস্টের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হতো। যাতে জনসাধারণ দেখে ভয় পায়। দেশে কেউ আর কোনো খারাপ কাজ না করে।

অনেক বিদেশী সাংবাদিক স্টেডিয়ামটি পরিদর্শন করে এটিকে আত্মার দ্বারা ভূতুড়ে স্থান বলে অনেক কথা বলেছেন। বর্তমানে স্টেডিয়ামটি সংস্কার করা হয়েছে, তার সত্বেও, লোকেরা সূর্যাস্তের পরে এটি দেখার সাহস করে না। এমনকি দিনের বেলায় এখানে কেউ ঢুকতে সাহস পায় না। স্টেডিয়ামটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে একজন আফগান সাংবাদিক বলেছেন: “একজন চোর ছিল যে তার গ্রাম থেকে সবকিছু চুরি করেছিল। তারা এখানেই তার হাত কেটে দিয়েছে এবং তার কাটা হাত এখানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এবং শরীরটাকে স্টেডিয়ামের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে বেত্রাঘাত করে জীবনটাকে শেষ করে দিয়েছিল।

সাংবাদিকের কথায়, একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা অবৈধ যৌন সম্পর্ক করছিল। তাদের ধরে এখানে আনা হয়েছিল, প্রত্যেককে একশ বেত্রাঘাত করা হয়েছিল এবং একে অপরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছিল। এরপর এখানে রয়েছে আরো এক মর্মান্তিক হত্যার কথা। এক দুর্বৃত্তকে মাথা কেটে গুলি করে মারাও হয়েছিল। আফগানরা কখনই এই খারাপ স্মৃতি ভুলেনি। স্টেডিয়ামের অলৌকিক কার্যকলাপের গুজব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে অন্য একটি স্থানীয় এই দাবীগুলোকে আরো বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। স্থানীয় একজন সাংবাদিকদের বলেছেন, “তালেবানরা একবার একজন মহিলাকে বসিয়ে, তার মাথার পিছনে বন্দুক রেখেছিল এবং তাকে দুইবার গুলি করেছিল। সে মাটিতে পড়ে গেল। জনতা শান্ত হয়ে গেল। এটি একটি অদ্ভুত এবং বিপজ্জনক পরিবেশ ছিল। মানুষ হতবাক ও ভীত হয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে আমি সেই মহিলার কথা মনে করি, এমনকি আমি এটি সম্পর্কে স্বপ্নও দেখি।”

পরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রোকার আফগানিস্তানে নেতাদের সাথে স্টেডিয়াম সম্পর্কে মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলতে ২৫০০০ আসন বসিয়ে স্টেডিয়ামটি সংস্কার করেছিলেন এবং সুন্দর করে সজ্জিত করেছিলেন কিন্তু তবুও কেউ একা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার সাহস করে না এবং মহিলাদের সাধারণত স্টেডিয়াম থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে বলা হয়। তবে, এই ঘটনাগুলো সবই আজ থেকে অন্তত ১৫ বছর আগের ঘটনা। সম্প্রতি স্টেডিয়ামটির অবস্থা স্বাভাবিক হলেও কেউ সহজে এই স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাই না। এমনকি এখানে অনেক ম্যাচ এবং বড় বড় টুর্নামেন্টও আয়োজিত হয়েছিল, কিন্তু স্টেডিয়াম ছিল প্রায় দর্শকশূন্য! স্টেডিয়ামের সংস্কারের জন্য যত কাজই করা হোক সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতিগুলো কী মানুষ ভুলতে পারবে?