On This Day: চারবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এক কিংবদন্তি, যা পারেননি পেলেও

0
26
On This Day birthday of Mário Zagallo Brazilian former football player

শান্তি রায়চৌধুরী: এই মাসে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের উল্লেখযোগ্য দিনগুলোর সবচেয়ে সেরা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব কে নিয়ে , যারা এই দিনটিতে পৃথিবীর আলো দেখেছেন, আবার কেউ হারিয়ে গেছেন আমাদের কাছ থেকে। তাছাড়া থাকছে ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাও।

প্রতিটি ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা, সোনালী ট্রফিটিতে চুমু আঁকা। কারোর কারোর এই সৌভাগ্য হয়, কারোর আবার হয় না। আবার এরমধ্যে একাধিকবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া ফুটবলার ও আছেন বেশ কয়েকজন।

- Advertisement -

আরও পড়ুন :স্বাধীনতার ৭৫ বছরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা প্রাপ্তি, ৬১টি পদক নিয়ে দেশে ফিরছেন আমাদের অ্যাথলিটরা

তার মধ্যে একজন হলেন মারিও জাগালো। যিনি বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখেছেন চারবার!
না, খেলোয়াড় হিসেবে চারবার বিশ্বকাপ জেতেননি তিনি। ইতিহাসের কোনো ফুটবলারেরই এখনো সেই সৌভাগ্য হয়নি। তবে জাগালোর কীর্তিও কম কৃতিত্বপূর্ণ নয় কোনো দিক থেকে। প্রথমবারের মতো কোচ ও খেলোয়াড় দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়েছিলেন, পরবর্তীতে তার সঙ্গী হয়েছেন কেবল জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার।

আরও পড়ুন :দীনেশ কার্তিককে কমেন্ট্রি বক্সে পাশে এসে বসার আহ্বান জাদেজার

খেলোয়াড় হিসেবে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছেন, এরপর মূল কোচ হিসেবে ব্রাজিলের হয়েই জিতেছেন ১৯৭০ এর বিশ্বকাপ। আর ১৯৯৪ এর বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলে কাজ করেছেন সহকারী কোচ হিসেবে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে মূল কোচ হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের একমাত্র কৃতিত্ব ইতালির ভিক্টোরিও পোজ্জোর। জাগালোও হতে পারতেন পোজ্জোর সঙ্গী, যদি না ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে জিদানের ফ্রান্সের কাছে হেরে বসতো ব্রাজিল।

খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ জয় ১৯৫৮ বিশ্বকাপে, যে বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে আছে ১৭ বছরের বিস্ময়বালক পেলের কল্যাণে।
নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি মোটেও, চার বছর পর চিলিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপও জেতে ব্রাজিল, সেই দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন জাগালো। এরপর আর খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি জাগালোর।

দুঃসময়ে নিজেদের পুরোনো সেনানী জাগালোর শরণাপন্ন হলো ব্রাজিল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার সাথে সাম্বার ছন্দময় ফুটবলের দিন ফিরিয়ে আনার জন্য জাগালোকেই সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে হলো তাদের। তবে ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৮, মাত্র এক বছর ব্রাজিলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে
আবারও দু’বছর বাদে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে ফিরে আসেন তিনি। নিজের ট্যাক্টিকাল বিচক্ষণতা দিয়ে সে বছরই কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ জেতেন, কোচ-খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের বিরলতম ক্লাবের সূচনাও করলেন তিনিই।

ব্রাজিলের কোচ হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ছিল জাগালোর শেষ বিশ্বকাপ।শেষ বিশ্বকাপটা রাঙিয়ে যেতে না পারলেও যে অর্জন রেখে গেছেন, তাতেই আজীবন ব্রাজিলের ফুটবল প্রেমীদের মনে জায়গা নিয়ে থাকবেন চারবার বিশ্বকাপের স্বাদ পাওয়া এই কিংবদন্তি।