On This Day: নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরেই বিশ্বজয় করা সেই ফুটবল শিল্পীর আজ জন্মদিন

0
16
on this day birthday of Italian football player Paolo Rossi

শান্তি রায় চৌধুরী: ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্খিত ট্রফি অবশ্যই বিশ্বকাপ, ১৮ ক্যারট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি ৩৬.৮ সেন্টিমিটারের এই ট্রফি ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন প্রতি ফুটবলারেরই থাকে। তবে পুসকাস, ক্রুইফ, প্লাতিনি, জিকোর মতো অনেক লিজেন্ডই আছেন যারা বহু চেষ্টা করে এই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। এমন মহারথীরা নিজেদের সামর্থ্যের পুরোটা দেওয়ার সুযোগ পেয়েও যেখানে বিশ্বকাপ জিততে পারেননি, সেখানে এমন একজন ফুটবলার আছেন যিনি কিনা বিশ্বকাপ শুরুর আগে দুইবছর ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে দলে ফিরে এসে দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর ব্যাপারে রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি ইতালিয়ান স্ট্রাইকার পাওলো রসি।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন পাওলো রসি। এরপর ‘টোটোনিরো’ খ্যাত ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে তিন বছরের জন্য সাসপেন্ড হয়ে জেলে যেতে হয় এই ইতালিয়ান ফরওয়ার্ডকে। জেলে তার সাজার মেয়াদ শেষের আগেই ১৯৮২ বিশ্বকাপ দলে খেলানোর জন্য বিশেষ বিবেচনায় আগাম মুক্তি দেয়া হয়। দলে ফিরে রসি বিশ্বকাপের প্রথম ৪ ম্যাচে গোল করতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে ব্রাজিলের সঙ্গে হ্যাটট্রিক করে বসেন! এরপর সেমিতে
পোল্যান্ডের সঙ্গে দুটি এবং ফাইনালে জার্মানিদের বিপক্ষে একটি গোল আসে তার পা থেকে। মোট ছটি গোলের সুবাদে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ‘গোল্ডেন বুট’ পাওয়া রসির কয়েদি থেকে বিশ্বজয়ী হওয়া যেন রূপকথার গল্প!

- Advertisement -

পাওলো রসির জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, ইতালির প্রাটোতে। মাত্র ছ’বছর বয়স থেকেই ফুটবলে হাতেখড়ি রসির, সেসময়ে অবসরে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলতে গিয়েই একসময় এই খেলার নেশায় বুঁদ হয়ে যান। একপর্যায়ে রসির জীবন পড়ালেখা ও ফুটবল- এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। সান্টা লুসিয়ায় খেলতে খেলতেই আস্তে আস্তে পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন।

১৬ বছর বয়সে ক্যাটোলিকার হয়ে শিয়েতি টুর্নামেন্ট খেলার সময়েই জুভেন্টাসের তৎকালীন ম্যানেজার ইতালো অ্যালোডির নজরে পড়ে যান। জুভেন্টাস ম্যানেজারে সেসময়েই তাকে জুভেন্টাস জুনিয়র টিমের জন্য দলে ভেড়াতে চাইলেও রসির বাবা-মা তাদের ছেলেকে দূরের এক শহরে একা পাঠাতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। শেষপর্যন্ত রসির জেদের কাছে হার মানেন তার বাবা-মা, জুভেন্টাসের হাত ধরেই রসির পেশাদার ফুটবলের যাত্রা শুরু হয়।

এ ব্যাপারে রসি বলেছিলেন, “বাবা-মা কখনোই চাননি আমি পড়ালেখা বাদ দিয়ে ফুটবলের দিকে ঝুঁকে পড়ি। কিন্তু জুভেন্টাসের অফারটা আসার পর থেকেই ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম আর বুঝতে পারলাম ফুটবলই আমার জীবনের সবকিছু, এই স্বপ্নই আমাকে পরবর্তী পর্যায়ে যেতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।” ২০২০ সাল যেন সত্যিই এক বিষাদময় বছর। একে একে বিদায় নিয়েছেন কিংবদন্তিরা। আর বছরের প্রায় শেষ মুহুর্তে,১০ ডিসেম্বরে সেই তালিকায় নাম তুলে নিলেন পাওলো রোসি। মারাদোনার পর আবারও এক নক্ষত্রপতনের সাক্ষী থাকল আন্তর্জাতিক ফুটবল জগত।