ব্র্যাডম্যান ও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে অস্ট্রেলিয়া

0
82
don-bradman-and-australia-in-his-personal-life

(খেলার মাঠের বাইরে ব্র্যাডম্যানের প্রকৃত অবদান জানতে হলে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ার সমাজকে জানা প্রয়োজন। আজ প্রথম পর্ব।)

শান্তি রায়চৌধুরী: ডন ব্র্যাডম্যানের জীবনী অনেক লেখকই লিখেছেন যাদের মধ্যে জান ময়েস ও আয়াভান রোসেনওয়াটার অন্যতম। সিডনির ক্রীড়া সাংবাদিক জনি ময়েসই প্রথম যিনি ডন ব্র্যাডম্যানের অনন্য প্রতিভা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এমনকি ব্র্যাডম্যানকে বাউয়ালের গ্রাম থেকে সিডনি শহর নিয়ে আসার নেপথ্যে ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না।

- Advertisement -

বিখ্যাত লেখক আরভিন রোসেওয়াটার এর বইয়ে ক্রিকেট অনুরাগী পাঠকবর্গ স্যার ওনাল্ডকে নতুনভাবে পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে মেসেনওয়াটারের রচিত ব্রাডম্যানের জীবনী হয়ে দাঁড়ায় এক ক্রিকেট ক্লাসিক। কোন ক্রীড়াবিদ ক্রিকেট ইতিহাসে এমন আলোকস্তম্ভ হয়ে যাবেন তা তৎকালীন বিশ্ব অনুভব করতে পারেনি। তবে আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় খেলোয়াড় ব্র্যাডম্যানকে নিয়ে যতটা তাঁর থেকে অনেক বেশি মানুষ ব্র্যাডম্যানকে নিয়ে। খেলার মাঠের বাইরে ব্র্যাডম্যানের প্রকৃত অবদান জানতে হলে তৎকালীন অস্ট্রেলিয়ার সমাজকে জানা প্রয়োজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ও আগে অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক জীবন- যাপনে বিরাট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

যুদ্ধের আগে অস্ট্রেলিয়া সংস্কৃতির দিক থেকে ছিল অতি মাত্রায় ব্রিটিশ। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে রাজনীতির দিক থেকে ছিল ব্রিটিশ প্রভাবমুক্ত। প্রায় ২০০ বছর ধরে ইংরেজ অপরাধীদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে দেশান্তর করার প্রথা ছিল। এই কারণেই নতুন প্রজন্মের অসিদের মধ্যেই একজন ছিলেন ডন ব্র্যাডম্যান। তাঁর সময়কার অসিদের মধ্যে তিনিও ইংল্যান্ডকে ‘মাদার কান্ট্রি’ বলে গণ্য করতেন। সাংস্কৃতিক দিক থেকে যত গাঢ় সম্পর্কই হোক না কেন, অসিদের মানসিকতা ছিল ইংরেজদের বিপরীত। কারণ হল রাজনৈতিক। নতুন দেশ। না আছে ইতিহাস, না আছে পরিচয় বিশ্বের কাছে স্বীকৃতি পেতে হলে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, হতে হবে স্বাবলম্বী। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার তাগিদ এমন মাত্রায় পৌঁছায় যে অসিদের অদম্য মানসিকতা অন্যদের কাছে ঔদ্ধত্য বলে মনে হত।

ব্র্যাডম্যানের প্রথম জীবন কেটেছে সিডনি শহরের কিছু দূরে বাউরালের গ্রাম্য পরিবেশে। ঘন্টার পর ঘন্টা একা একা নিবিড় ক্রিকেট অনুশীলনে মেতে থাকতেন তিনি। দেখতে দেখতে বাউরাল দল, জেলা দল, রাজ্য দল এবং তারপর এক বছরের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আমন্ত্রণ পান। প্রথম টেস্টে করেছিলেন মাত্র ১৯। দ্বিতীয় টেস্টে দল থেকে বাদ পড়ে হয়েছিলেন দ্বাদশ ব্যক্তি। তৃতীয় টেস্টে ব্র্যাডম্যান শতরান করার পর থেকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ কুড়ি বছর প্রতিনিধিত্ব করেন, তারমধ্যে সাত বছর নষ্ট হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লাগার ফলে। যতদিন খেলতে পেরেছেন ততদিন প্রমাণ রেখেছেন তিনি অদ্বিতীয়। মাত্র ৫২ টেস্টে ৮০ ইনিংসে করেছেন ৬৯৯৬ রান। গড় ৯৯.৯৬। ২৯ টা শতরানের মধ্যে কাছে দুটো তিনশো আর একরাশ ডাবল সেঞ্চুরি। আজ পর্যন্ত এমন বিশ্বমানের ক্রিকেটার খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ক্রমশ…