Phillip Hughes: ৬৩ চির অপরাজিত

সে সময়টা 'ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া'র চেয়ারম্যানকে প্রায়শই বলতে শোনা গিয়েছে, "ফিলের তো গোটা কেরিয়ারটাই পড়ে রয়েছে। কিন্তু রজার্সের (প্রাক্তন অজি ওপেনার ক্রিস রজার্স) সময় আগত। এখন কিছুদিন না হয় রজার্সই খেলুক..."

0
183

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: ২৫ নভেম্বর, ২০১৪

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। শন অ্যাবটের নিখুঁত বাউন্সার সজোরে আছড়ে পড়ল ফিলিপ জোয়েল হিউজেসের অনাবৃত ঘাড়ে। নিয়তি কে ন বধ্যতে! বলটা যে অতখানি লাফাতে পারে, অ্যাবট কী নিজেও ভাবতে পেরেছিলেন? পেশাদার পেসার হিসেবে তিনি তো শুধু ব্যাটারের ইনিংসটির অন্ত ঘটাতে চেয়েছিলেন। বিস্ফারিত চক্ষে চেয়ে চেয়ে দেখলেন মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন তাঁর সেই প্রতিপক্ষ। দেখতে না দেখতেই ব্ল্যাক আউট!

আরও পড়ুন: Kolkata Derby: শ্যাম থাপাকে প্যাঁক দিয়েছিলেন, এদিকে নিজেই ইস্টবেঙ্গলী হতে বাধ্য হন উত্তমকুমার

আর তারপর? সিডনির সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে “ক্লিনিক্যালি ডেড” ঘোষণা করা হয়। তবু অদম্য প্রচেষ্টায় সাময়িকভাবে ফিরিয়ে আনা গিয়েছিল। কিন্তু দিন দুই পর— অর্থাৎ ২৭ নভেম্বর— অর্থাৎ আজ থেকে ঠিক ৭ বছর আগে…. সব লড়াই শেষ!

কথায় কথায় আমরা বলি, জীবনের অপর নাম ক্রিকেট। কী আশ্চর্য সমাপতন— তাই না? সে সময়টা ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’র চেয়ারম্যানকে প্রায়শই বলতে শোনা গিয়েছে, “ফিলের তো গোটা কেরিয়ারটাই পড়ে রয়েছে। কিন্তু রজার্সের (প্রাক্তন অজি ওপেনার ক্রিস রজার্স) সময় আগত। এখন কিছুদিন না হয় রজার্সই খেলুক…”

কথাটা চির অভিমানী ছেলেটার মানে লেগে গেল। ২৬ বছর পূরণ হতে তখন আর মাত্র দিন ৩ বাকী। রজার্স ছাড়ার বহু আগেই নিজে অবসরে চলে গেল! চির অবসর! ওই যে বলছিলাম, জীবনের নামই ক্রিকেট! অ্যাবটের আর কী দোষ? তাঁর প্রায় ১৫০ কিমি গতির ডেলিভারিটি যখন অনাবৃত ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে, ৬৩*— স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে।

আরও পড়ুন: IND Vs NZ: ব্ল্যাক ক্যাপদের বিরুদ্ধে অনন্য রেকর্ড ছুঁলেন অক্ষর

শেষবার সশরীরী উপস্থিতি ওখানেই। যার দরুন কান্নায় ভেঙে পড়েন অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। নিজের ভ্রাতৃসম সতীর্থকে হারিয়ে। কিন্তু ইনিংস? উঁহু! যতদিন বাঁচবে ভদ্রলোকের এই ‘ঝিঁ ঝিঁ’ খেলাটি, সিডনি তো বটেই, বিশ্বের সকল স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করতেই থাকবে নামের পাশে তারকা চিহ্নটি। যিনি তরতাজা জীবনটা কেড়ে নিয়েছেন। মোছার সাধ্য স্বয়ং সেই বিধাতারও নেই।

যেখানেই থেকো, ভালো থেকো ফিল….