এই বিশেষ গেমে প্লেয়ারের মৃত্যু হলে বাস্তবেও মারা যাবেন তিনি

0
46
Game

খাস ডেস্ক: একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে প্রযুক্তির দুনিয়ায় অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী এবং টেক স্যাভিরা। 3D, 4D, 7D-এর পর এখন পর্দায় দেখা জিনিস রীতিমত জীবন্ত হয়ে উঠছে মানুষের কাছে। একটি হেডসেট পরে নিলেই বাস্তব দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে পাড়ি দেওয়া যায় অন্য জগতে। যার নাম ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি। এই যন্ত্রটি চোখে পরে নিলে স্ক্রিনের দৃশ্যগুলি মানুষ কেবলমাত্র দেখতেই পান না, বরং তা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কতটা মারাত্মক হতে পারে, জানলে শিহরিত হবেন আপনিও। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়নের আবহে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন এক গেম (Game) ডেভেলপার। Oculus Rift-এর উদ্ভাবক পাল্মার লাকি জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি গেম তৈরি করেছেন, যেটি খেলতে গিয়ে গেমের মধ্যে যদি কোনও প্লেয়ারের মৃত্যু হয়, তাহলে বাস্তবেও তাঁর মৃত্যু হবে। এই গেমটি এতটাই মারাত্মক যে, সেটি বানানোর পর পাল্মার লাকি নিজেও খেলে দেখার সাহস পাননি।

আরও পড়ুন- ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় মৃত্যু ৮ বছরের বালিকার

- Advertisement -

নিজের ব্লগে পাল্মার জানিয়েছেন, এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেটটি অত্যন্ত শক্তিশালী হবে। এটির নাম NerveGear রেখেছেন পাল্মার। সাধারণ ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ডিভাইসের মত দেখতে হলেও এর মধ্যে ৩ টি বিস্ফোরণ (এক্সপ্লোসিভ চার্জ) হতে পারে। যদি সএকটি বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি আসে তাহলে স্ক্রিনের উপর একটি লাল আলো জ্বলে উঠবে এবং তখনই বিস্ফোরকগুলি কার্যকর হয়ে উঠবে। ফটোসেন্সরের মাধ্যমে এক্সপ্লোসিভগুলিকে চার্জ দেওয়া হবে এবং গেমের মধ্যে যখনই কোনও প্লেয়ারের মৃত্যু হলেও বাস্তবেও তিনি মারা যাবেন। তবে এখনও পর্যন্ত ডিভাইসটি সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন পাল্মার। তিনি আরও জানিয়েছেন, গ্রাফিস্ক গুলিকে আরও ভালো করলে গেমটি প্লেয়ারদের আরও ভালোভাবে বাস্তবের অনুভূতি দিতে সক্ষম হবে। গেমিং দুনিয়ার এই দিকটি নিয়ে প্রচুর কাজ করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন- শেষ হয়ে গেল জি বাংলার এই ধারাবাহিক

কিন্তু এখনও পর্যন্ত নিজে এই ডিভাইসের মাধ্যমে গেম খেলার সাহস করে উঠতে পারেননি পাল্মার। উল্লেখ্য, কয়েকবছর আগে ব্লু হোয়েল নামক গেম বিশ্বজুড়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। কিশোর এবং যুবকেরা এই গেমের ফাঁদে পড়ে বিপদ ডেকে আনছিলেন। গেমের বিভিন্ন লেভেলে উদ্ভট চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছিল, যেগুলি শারীরিক এবং মানসিকভাবে ব্যপক প্রভাব ফেলছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে। আর গেমের (Game) শেষ লেভেলে পৌঁছে প্লেয়ারদের “ব্লু হোয়েল” বলে আত্মহত্যা করতে হত। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, তেমনই এই ধরণের প্রযুক্তির ফলে মানুষের প্রাণনাশের আশঙ্কা ঘটছে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই নেতিবাচক মতামত প্রকাশ করেছেন। বাস্তব জগৎ থেকে নতুন প্রজন্মকে বিমুখ করে দিচ্ছে এই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি বলে মত পোষণ করেছেন অনেকে।