রাবণ নিজের ইচ্ছাতেই বধ হয়েছিলেন রামের হাতে

0
86

বিশ্বদীপ ব্যানার্জি: রাম-সীতা এবং হনুমান ছাড়া যেমন রামায়ণ অসম্ভব, ঠিক তেমনিই রাবণ ছাড়াও অসম্ভব রামায়ণ। শুধু তাই নয়। রাম যে রাবণ বধ করেছিলেন, সেটিও হয়েছিল রাবণের ইচ্ছেতে। অবাক লাগছে? অবাক লাগলেও সত্যি এটি-ই।

আরও পড়ুন: একটি নয়, জোড়া পৌরাণিক তাৎপর্য রয়েছে রাম নবমীর, জেনে নিন

- Advertisement -

যা উল্লিখিত বাল্মিকী রচিত মহাকাব্যের উত্তরকাণ্ডে। আসলে রাবণ রামের হাতে মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন বলেই বিরুদ্ধে যান রঘুনন্দনের। কারণ? সত্যযুগে প্রজাপতি ব্রহ্মার পুত্র সনৎকুমারকে রাবণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন, দেবতাদের মধ্যে সবথেকে বলবান কে। এই প্রশ্নের জবাবে সনৎকুমার বলেন, “তিনি সর্বজগতের কর্তা হরিনারায়ণ। তাঁর উৎপত্তি আমরা কেউ জানি না। তিনিই আদি এবং অন্ত।” রাবণ তখন ফের জিজ্ঞেস করেন, “আচ্ছা, এই হরির হাতে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেন, তাঁদের কী গতি হয়?”

এর জবাবে সনৎকুমার বলেন, “হরির হাতে যাঁদের মৃত্যু, তাঁরা হরির চরণে-ই আশ্রয় পান। হরির ক্রোধও তাঁর বরের তুল্য।” তখন রাবণ বলেন, “বেশ। আমি যখন অমর নই। তাহলে তাঁর হাতেই বিনাশপ্রাপ্ত হব।” এই হল রামের রাবণবধের পূর্ব বৃত্তান্ত। এছাড়া অন্য একটি মতে বিষ্ণুর দুই দ্বাররক্ষী— জয়-বিজয়ে’র একটি কাহিনীও রয়েছে।

ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী, জয় এবং বিজয় হলেন শ্রীবিষ্ণুর নিবাস বৈকুণ্ঠধামে’র দুই দ্বাররক্ষী। জলের দেবতা বরুণের পুত্র কলির পুত্র তাঁরা। একবার ব্রহ্মা এবং গায়ত্রীদেবীর চার মানসপুত্র— সনক, সনন্দন, সনাতন এবং সনৎকুমার এসে বিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে জয়-বিজয় তাঁদের বাধা দেন।

আসলে তাঁরা দেখতে ছিলেন একেবারে শিশুর মত। যে কারণে তাদের চতুর্কুমার বলা হত। জয় এবং বিজয় সে কথা জানতেন না বলেই বাধা দেন। তাঁরা আরও বলেন, “জনার্দন এখন ঘুমাচ্ছেন।” তখন চতুর্কুমার ক্রোধভরে জানান, “প্রভু বিষ্ণু কোনও অবস্থাতেই তাঁর ভক্তদের ফিরিয়ে দেন না। দুই ভাইকে তাঁরা অভিশাপ দেন, “তোমাদের বিষ্ণুলোক ত্যাগ করে মনুষ্যযোনিতে জন্ম নিতে হবে মর্ত্যে।” এতক্ষণে হুঁশ হয় জয়-বিজয়ের। তাঁরা কী করে প্রভু বিষ্ণুকে ছেড়ে থাকেন? দ্রুত ছুটে যান প্রভু নারায়ণের কাছে।

খাস খবর ফেসবুক পেজের লিঙ্ক:
https://www.facebook.com/khaskhobor2020/

জগদীশ্বর সবটাই জানতেন। তিনি বলেন, এর দুটি উপায় আছে। হয় মানুষ হিসেবে সাতজন্ম বিষ্ণুর আরাধনা করতে হবে। নয়ত বিষ্ণুর চরম শত্রু হিসেবে তিনবার জন্ম নিয়ে তাঁর হাতে মৃত্যুবরণ করতে হবে। দুয়ের যে কোনও একটি করলেই জয়-বিজয় বৈকুন্ঠে ফিরে আসতে পারবেন। সাতজন্ম প্রভুর থেকে দূরে থাকা! সেও কী সম্ভব? জয়-বিজয় স্বাভাবিকভাবেই প্রথম শর্তটি মেনে নেন। অতঃপর তাঁরা সত্যযুগে যথাক্রমে হিরণ্যাক্ষ এবং হিরণ্যকশিপু, ত্রেতাযুগে যথাক্রমে রাবণ এবং কুম্ভকর্ণ, শেষে দ্বাপরে শিশুপাল এবং দন্তবক্র হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম দুজনকে যথাক্রমে বিষ্ণুর বরাহ এবং নরসিংহ অবতার হত্যা করেন। রাবণ-কুম্ভকর্ণ নিহত হন সপ্তম অবতার রামের হাতে। এবং শিশুপাল এবং দন্তবক্রের বিনাশ ঘটান কৃষ্ণ।