বিধানসভায় শূন্য, তবু কেন শাসকের মাথাব্যাথা যুবনেত্রী মীনাক্ষী

0
39

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং সেখানেই চোখে চোখ রেখে লড়াই জারি রাখা৷ পুলিশের চোখে ধুলো দিতে রাজপথের পরিবর্তে বেছে নিয়েছিলেন মেট্রোপথ৷ জুম্মাবারের দুপুরে সল্টলেকে পুলিশি অত্যাচারের প্রতিবাদে অকুস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদিকা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Meenakshi Mukherjee)৷ মেট্রো থেকে সিটি সেন্টারে নামার পরই পুলিশ তার পথ আটকে দাঁড়ায়৷ তবে বিনা যুদ্ধে ময়দান ছাড়তে চাননি নন্দীগ্রামের লড়াকু নেত্রী৷ দীর্ঘ প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি৷ অবশেষে তোলা হয় প্রিজনভ্যানে৷

শুধু জুম্মাবারের করুণাময়ী নয়৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ কয়েক বছরে রাজ্যের যে ক’টি জায়গায় শাসকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে, তখনই সেই অকুস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা জারি রেখেছেন মীনাক্ষী৷ কখনও পুলিশ, কখনও বা শাসকদলের ক্যাডারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পৌঁছেছেন অকুস্থলে৷ অত্যাচারিতদের পাশে দাঁড়িয়ে একেবারে নেত্রীসুলভ কায়দাতেই আন্দোলনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন৷ অকুস্থলে পৌঁছাতে একাধিকবার কৌশলও নিতে হয়েছে তাঁকে৷ ঠিক যেমনভাবে এদিন রাজপথের পরিবর্তে মেট্রোকে বেছে নিয়েছিলেন সিপিএমের আদরের ‘মীনু’৷ মঙ্গলবার থেকে সল্টলেকের করুণাময়ীতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বারে বারে পৌঁছাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে৷

- Advertisement -

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মতাদর্শগত দিক থেকে আসমান-জমিন ফারাক থাকতেই পারে৷ কিন্তু মীনাক্ষীর মধ্যে কোথাও যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া৷ তাঁরা বলছেন, তরুণী থাকাকালীন মমতা যে স্টাইলে সাত পাঁচ না ভেবেই ঝুঁকিস্থলে পৌঁছে যেতেন, শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করে তুলতেন৷ অনেকটা সেই স্টাইলেই মমতার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছেন মীনাক্ষী৷ লড়াকু ইমেজের নিরিখে দু’জনের মধ্যেই বিস্তর মিলও দেখতে পাচ্ছেন তাঁরা৷ জিরো থেকে শুরু করেছিলেন মমতা৷ কাকতালীয়ভাবে, মীনাক্ষীর (Meenakshi Mukherjee) উত্থানপর্বেও এরাজ্যে (বিধানসভায়) অফিসিয়ালি সিপিএম শূন্য! সেই কারণেই মীনাক্ষীর প্রতিটি মুভমেন্টের দিকে রাজ-পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারি লক্ষ্য করা যায়- মত ওয়াকিবহাল মহলের৷

   আরও পড়ুন: আটক মীনাক্ষী, ‘পুলিশ ভয় পাচ্ছে, তাই প্রতিবাদের কন্ঠরোধের চেষ্টা’

https://play.google.com/store/apps/details?id=app.aartsspl.khaskhobor