দুর্নীতি ইস্যুতে দুই রাজ্যে দুই বিধান, প্রশ্নের মুখে মমতার সরকার

0
54

কলকাতা: দুর্নীতি ইস্যুতে দুই রাজ্যে দুই বিধান! আম আদমি পার্টির পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের একটি পদক্ষেপের দৌলতে সোশ্যাল সাইটে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজারও মিম৷ সেই সূত্রেই ফের খবরের শিরোনামে, পোড়া বাংলা৷ নেটিজেনরা বলছেন, বাংলায় ঘুষ ‘খেলে’ পুরষ্কার, পঞ্জাবে শাস্তি!

ঘটনার সূত্রপাত, দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকেই রেয়াত নয়৷ সেটা খাতায় কলমে করে দেখালেন আম আদমি পার্টির পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান৷ সরকারি প্রকল্পে কাজের বিনিময়ে ঠিকাদারদের থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিজয় সিংগলাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করলেন মান৷ একই সঙ্গে পুলিশকে এফআইআর করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷ ট্যুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের কথা নিজেই জানিয়েছেন আপের পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী৷ স্বভাবতই কেজরিওয়ালের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি৷

সেই সূত্রেই উঠে আসছে বাংলার প্রসঙ্গ৷ সম্প্রতি সামনে এসেছে এরাজ্যে এসএসসির নিয়োগ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ৷ নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়েছে স্বয়ং রাজ্যের দুই মন্ত্রীর৷ এমনকি নিজের মেয়েকে প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে গোয়েন্দাদের আতসকাচের নিচে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী৷ ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে স্কুল শিক্ষিকার চাকরি থেকে বরখাস্ত মন্ত্রী কন্যা৷ তবু মঙ্গলবার ডেরায় ফিরতেই সংবর্ধনা পেতে দেখা গিয়েছে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী পরেশকে৷

স্বাভাবিকভাবে দুই রাজ্যের দুই সরকারের একই ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের তুলনা টেনে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন নেটিজেনরা৷ তাঁরা বলছেন, মাত্র দু’মাসের একটি সরকার৷ সেখানে কথার থেকে কাজ বেশি হচ্ছে৷ এটাই আম আদমি পার্টি৷ বাংলার সঙ্গে তুলনা টেনে তাঁরা বলছেন, বাংলায় কোনও নেতা, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে সেটিকে আড়াল করতে উঠে পড়ে লেগে যায় শাসক৷ এক্ষেত্রে অবশ্য আপের মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটে ইতিমধ্যেই নিজের দেশে তো বটেই সারা দেশের প্রশংসা কুড়িয়েছেন৷ খোদ অরবিন্দ কেজরিওয়ালও টুইটে লিখেছেন, ‘তোমাকে নিয়ে আমি গর্বিত ভগবন্ত৷ তোমার এই পদক্ষেপ আমার চোখে জল এনে দিয়েছে৷ গোটা দেশ আজ আপ-এর জন্য গর্ব বোধ করছে৷’

স্বভাবতই, নেটিজেনদের প্রশ্ন- পঞ্জাবের দু’মাসের একটা সরকার যা করে দেখাতে পারে তা কেন পারে না বাংলা বা দেশের অন্যান্য রাজ্য? জবাব নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছেও৷

আরও পড়ুন: দল বদলের হিড়িকে শুধু সাধারণ মানুষের নয়, ক্ষতি হচ্ছে রাজনীতিরও