মূল্যবোধের প্রশ্নে শুভেন্দু-পিতাকে আক্রমণ তৃণমূলের

0
18
sudip banerjee

কলকাতা: দল বদলানোর সময় থেকেই তিনি বরাবরই সরব হয়েছেন মূল্যবোধের ইস্যুতে৷ উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই শুভেন্দু অধিকারীর পিতা শিশির অধিকারী এবং ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে মূল্যবোধের প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সাংসদ, লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee)৷ একই সঙ্গে জানালেন, দলের সিদ্ধান্ত না মেনে কেন ভোট দিলেন? জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে ওঁদের৷

সুদীপের কথায়, ‘‘যারা দলের হুইপ মানলেন না, তাদের কাছে আমি প্রত্যাশা করব-মূল্যবোধকে মান্যতা দিয়ে ইস্তফা দিন!’’ যা শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুভেন্দু বরাবর তৃণমূলের মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ এবার তাঁর তোলা প্রশ্নেই তাঁর বাবা ও ভাইকে পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নিল তৃণমূল৷ যদিও এই বিষয়ে অধিকারী পরিবারের কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি৷ তবে বিষয়টিকে ‘তৃণমূলের দলীয় বিষয়’ বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছে গেরুয়া শিবির৷ দলের এরাজ্যের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শিশিরবাবু এবং দিব্যেন্দু তৃণমূলের লোক না তৃণমূলের লোক নয়, সেটা তৃণমূল বুঝবে৷ তবে রাষ্ট্রপতির উপ নির্বাচনে দলের কোনও হুইপ থাকে না৷ তৃণমূল অংশগ্রহণ করেননি সেটা আলাদা কথা৷ ওদের দলের বিষয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করব না৷’’

বস্তুত, উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকার জন্য দলের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিশির-দিব্যেন্দুকে৷ সেই নির্দেশ উড়িয়েই শনিবার উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন শিশির অধিকারী এবং দিব্যেন্দু অধিকারী৷ বস্তুত, এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়ও দলের তরফ থেকে এরাজ্যের ভোটদানে অংশগ্রহণের কথা বলা হলেও পিতা-পুত্র অবশ্য সেই নির্দেশ উড়িয়ে দিল্লি গিয়েছিলেন৷ স্বভাবতই, শুভেন্দুর পিতা ও ভাইয়ের এমন পদক্ষেপে তাঁদের পদ্ম-যোগে বিশেষ দেরি দেখছেন না রাজনৈতিক মহল৷

শিশির-দিব্যেন্দু যে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবেন, তা অবশ্য রাজনৈতিক মহলের কাছে স্পষ্ট ছিল৷ কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের নির্দেশ নির্দেশ উড়িয়ে দিল্লি গিয়ে ভোট দান করলেও বাইরে এসে শিশিরবাবু দাবি করেছিলেন, ‘‘নেত্রী এবং দলের নির্দেশ মেনে যশবন্ত সিনহাকেই ভোট দিয়েছি৷’’ একই কথা শুনিয়েছিলেন দিব্যেন্দুও৷ বরং একধাপ এগিয়ে শিশিরবাবু বলেছিলেন, ‘‘আমি তৃণমূলে ছিলাম, আছি এবং থাকব৷ দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে শেষ কথা৷’’ স্বভাবতই, অনেকেই মনে করেছিলেন উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও হয়তো দলের নির্দেশ মেনে ভোটদান থেকে বিরতই থাকবেন শুভেন্দুর বাবা ও দাদা৷

এমনকি জল্পনা জিইয়ে রেখে শুক্রবারও শিশিরবাবু বলেছিলেন, ‘গেলে দেখতে পাবেন, না গেলেও পাবেন’! তবে এদিন অবশ্য তৃণমূলের বাকি সাংসদরা ভোটদান থেকে বিরত থাকলেও ভোট দিতে দেখা গিয়েছেন শিশির অধিকারী ও তাঁর সেজো পুত্রকে৷ স্বাভাবিকভাবে, নৈতিক মূল্যবোধের অস্ত্রে তাঁদের ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠছে তৃণমূল৷ সেটাই এদিন স্পষ্ট করলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ((Sudip Banerjee))৷

আরও পড়ুন: দুয়ারে বিপদ বুঝেই কি পার্থ ঘনিষ্ঠ দুই আমলাকে সরালেন Mamata