কর্মী আন্দোলনে রণক্ষেত্র কাঁথি, ‘পুরসভা চালাতে জানতে হয়’ কটাক্ষ শুভেন্দুর ভাইয়ের

0
218

মিলন পণ্ডা, কাঁথি: দু’মাসের বেতন বকেয়া৷ প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলেন শতাধিক পুরকর্মী৷ পুরসভার মেন গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হল তালা৷ কর্মচারীদের বিক্ষোভের জেরে কার্যত অগ্নিগর্ভের চেহারা নিল কাঁথি পুরসভা। স্লোগান উঠল, ‘শুভেন্দু অধিকারী মনোনীত চেয়ারম্যান হঠাও’! আর যে বিক্ষোভ দেখে তৃণমূলের উদ্দেশ্যে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী ভাই সৌমেন্দু অধিকারী৷ বললেন, ‘পুরসভা চালাতে জানতে হয়!’’

কাঁথি পুরসভা কর্মচারী সংগঠনের সম্পাদক খোকন চক্রবর্তী বলেন, রাতের অন্ধকারে অবৈধভাবে পুরো কর্মীদের বদলি করা হচ্ছে। অস্থায়ী কর্মীদের ১৯ মাস প্রভিডেন্ট ফাণ্ডে টাকা জমা করেনি। তার ওপর টানা দু’মাস বেতন বন্ধ৷ তারই জেরে আমাদের এই আন্দোলন৷ এদিকে পুরকর্মীদের এদিনের বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন কাজে পুরসভায় এসে সমস্যার সম্মুখীন হন শহরের বাসিন্দাদের৷ তবে বিক্ষোভের জেরে এদিন পুরচত্বরে দেখা মেলেনি পুরপ্রধান সুবল মান্নাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসেন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর রিনা দাস ও আলেম আলি খান।

সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুবল মান্নার স্বেচ্ছাচারিতা বিরুদ্ধে সরব হন কাঁথি পুরসভা অস্থায়ী ও স্থায়ী কর্মচারীরা। এদিন সকালে পুরসভার মেন গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। গেটের সামনে বসে পড়ে পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে পুর কর্মচারীরা। দীর্ঘক্ষণ অবস্থান-বিক্ষোভ চালিয়ে যান পুর কর্মীরা। পরে আগামী সোমবার বিকেলে কর্মচারী সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসার আশ্বাস দিলে অবরোধ সাময়িকভাবে উঠে যায়৷

চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর সদস্য আলেম আলি খান বলেন, “পুর কর্মীদের দাবিগুলি ন্যাহ্য৷ তবে আমরা মাত্র এক মাস হল বসেছি। সোমবার বিকেলে পুরপ্রধান ও কর্মচারী সংগঠন নিয়ে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র খুঁজে বের করা হবে৷’’ যদিও এই বিষয়ে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। তিনি কাঁথি পুরসভা দু’বারের পুরপ্রধান ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ” আমি সাড়ে ১০ বছর পুরসভা চালিয়েছিলাম। পুরসভা চালাতে জানতে হয়।’’ একই সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘কিছু অর্থ রেখে দিয়েছিলাম বলে, গত ১৪ মাস পুরসভা চালাতে পেরেছেন। আসলে চুরি-চামারি করে ভোটে জিতলে এমনই হয়!’’

আরও পড়ুন: অভাবের সুযোগ নিয়ে বাংলায় বাড়ছে ধর্মান্তকরণ, তবু সরকার চুপ: Suvendu Adhikari