অল্প বৃষ্টিতেই ভাসে এলাকা, বানভাসি তকমা কি সত্যিই ঘুচবে ঘাটালের

0
21

কলকাতা: এক পশলা বৃষ্টিতেই জল থৈ থৈ হাল হয় এই শহরের৷ কারণ ভৌগলিকগত কারণে এই গঞ্জটি আস্ত গামলার মতো৷ চারিদিক থেকে জল ঢুকলেও সেই অর্থে নেই পর্যাপ্ত নিকাশীর ব্যবস্থা৷ ফলে স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও ভীষণভাবে জীবন্ত ঘাটালের বন্যা সমস্যা (Ghatal master plan)৷

বাসিন্দারা বলছেন, বন্যা সমস্যার সমাধান তো হয়ইনি বরং রাজনৈতিক চাপানউতোর দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। ফলে বানভাসি সমস্যা (Ghatal master plan) সমাধানের পরিবর্তে ভোটের প্রচার হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। অবশেষে বহু টালবাহানার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ইনভেস্টমেন্ট ক্লিয়ারেন্স কমিটির ছাড়পত্র পেয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান৷ দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদী সরকার৷ কিন্তু এবারে কি সত্যিই মুছবে ঘাটবাসীর দুঃখ? তৈরি হবে ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান? নাকি আবারও রাজনৈতিক কারণে বিশবাঁও জলে ডুব দেবে ঘাটালবাসীর স্বপ্ন? প্রশ্ন গুলো উঠছে৷ কারণ, অতীতে এমন উদ্যোগ বারে বারে নিলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবের মুখ দেখেনি৷

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ন চন্দ্র নায়ক ও দেবাশিস মাইতি বলেন, ‘‘দেরিতে হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের ইনভেস্টমেন্ট ক্লিয়ারেন্স কমিটির ছাড়পত্র পেয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান৷ তাই আর কোনওরকম ঢিলেমি না করে অবিলম্বে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত অর্থ মঞ্জুর করে প্রয়োজনীয় টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করুক৷ ঘাটালের বাসিন্দা হিসেবে দুই সরকারের কাছে এটাই আমাদের একমাত্র দাবি৷’’

বস্তুত, গতবারের বর্ষাতেও বিধ্বংসী বন্যার সাক্ষী থেকেছে ঘাটাল শহর৷ চারিদিকে নদীতে ঘেরা এই তল্লাটে বর্ষাকালে অন্তত দু থেকে তিনবার বানভাসী হতে হয় বাসিন্দাদের৷ ২০২১ সালে বিধ্বংসী বন্যার পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘাটাল বন্যাপরিদর্শন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্য সরকারের সেচ মন্ত্রীর নেতৃত্বে, প্রতিনিধিদল দিল্লিতে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে দরবার করে। এর পরে কেন্দ্রীয় সরকার ফ্ল্যাড ম্যানেজমেন্ট এন্ড বর্ডার এরিয়া প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় রাজ্য সরকারকে। রাজ্য, কেন্দ্রের এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয়। নিয়ম মত, ১২৩৮ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে (Ghatal master plan) কেন্দ্র খরচ করবে ৬০ শতাংশ ও রাজ্য ৪০ শতাংশ। স্বভাবতই সব মহলের দাবি, অবিলম্বে নিজেদের বরাদ্দকৃত টাকা দিক দুই সরকার৷ তাহলেই দ্রুত সমস্যার হাত থেকে বেরিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোবে ঘাটাল৷ মুছবে বানভাসী তকমা৷

আরও পড়ুন: শুভেন্দুকে গ্রেফতারের দাবি, রাজভবনের প্রথমসারিতে নন্দীগ্রামের শহিদের মা