কাজে দিল না শাহ ‘টনিক’, ফের বিক্ষোভ বিজেপিতে, পদত্যাগ পাঁচ নেতার

0
35

কলকাতা ও বারাসত: শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার মাটি ছেড়েছেন তিনি৷ যাওয়ার আগে চোস্ত হিন্দির সঙ্গে ভাঙা বাংলা মিশিয়ে নেতৃত্বকে আরও বেশি জনমুখী আন্দোলনের কথা বলেছিলেন তিনি৷ কিভাবে আন্দোলন করতে হয়, কিভাবে শাসককে টলিয়ে দিতে হয়, সেটা মমতা দিদির কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন, নিজেদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা না করে মানুষের সঙ্গে সু-সম্পর্ক গড়ুন৷

কিন্তু সে গুড়ে বালি! শাহের রাজ্য সফরের একদিনের ব্যবধানেই ফের বড়সড় ভাঙন বিজেপিতে৷ দলের জেলা সভাপতির উপর ক্ষোভ জানিয়ে এক যোগে পদ ছাড়লেন বিজেপির পাঁচ নেতা । ঘটা করে হল সাংবাদিক বৈঠকও৷ সেখানে নিজেদের ক্ষোভের কথা উগড়ে দিলেন নেতৃত্বরা৷ তার জেরে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের ছন্নছাড়া ছবিটা আরও একবার স্পষ্ট হল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷

ঘটনার সূত্রপাত, বারাসত এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য পদ ছাড়লেন বিজেপির পাঁচজন নেতা। রবিবার অশোকনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন তাঁরা। মূলত বারাসাত সাংগঠনিক জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস মিত্রর প্রতি ক্ষোভ দেখিয়েই তাঁরা এই পদ ছাড়লেন। বারাসাত সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ছিলেন। গত রবিবার জেলা সভাপতির উপর ক্ষোভ দেখিয়ে বারাসাতে সাংবাদিক বৈঠক করে ১৫ জন নেতা পথ ছেড়েছিলেন। এবার অশোকনগরে সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দন দাস, গৌরাঙ্গ নন্দী ,কৃষ্ণা রায়, গৌরাঙ্গ দাস ও প্রবীর দাস এই পাঁচজন পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন।

সদ্য পদত্যাগী ওই নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান জেলা সভাপতি দলের পুরনো দিনেত নেতৃত্ব, কর্মীদের কোনও গুরুত্বই দিচ্ছেন না৷ পাশাপাশি রয়েছে আর্থিক দুর্নীতির মতো জোরাল অভিযোগ৷ এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা বলেন, ‘‘আমরা রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে আমাদের পদ ছাড়ার কারণ জানিয়ে একটি চিঠিও পাঠাচ্ছি।’’ এদিকে বারাসাত সাংগঠনিক পদ থেকে একের পর এক নেতার সরে আসার কারণে আরও প্রকট বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দল৷ যার ফলে এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তিও আরও দুর্বল হবেই বল ওই মহলের৷ স্বভাবতই, অমিতজির ‘টনিক’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরেই৷ যদিও এই বিষয়ে জেলা সভাপতি বা রাজ্য নেতৃত্বের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি৷

আরও পড়ুন: গ্যাসের দাম বাড়তে চাহিদা বাড়ছে ঘুটে-কয়লার, উনুনে লুচি ভেজে বোঝালেন ওরা