‘তৃণমূল নয়, পঞ্চায়েতে লড়াই হবে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে’- নেতার হুমকি ঘিরে বিতর্ক

0
11
Panchayat Election

চাঁচল: তৃণমূল নয়, আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Election) লড়াই হবে পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জেলা পুলিশ সুপার, জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ঘেরাও হবে। কাউকে ছেড়ে কথা বলা যাবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গোটা মালদহ জেলা নিস্তব্ধ করার হুঙ্কার ছুঁড়লেন কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক মানিকচকের মোত্তাকিন আলম। আজ মালদহের মালতীপুর বিধানসভার জালালপুরে প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এভাবেই হুশিয়ারি দেন মানিকচক ও সুজাপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ঈশাখান চৌধুরী। যার জেরে নতুন করে উত্তেজনার পারদ ছড়িয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে৷

বস্তুত, বছর ঘুরলেই রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayat Election) । ইতিমধ্যে সেই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে শাসক থেকে বিরোধী সকলে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে সভা ও পাল্টা সভা। আজ জালালপুরে কংগ্রেসের প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিশানা করেন দলের প্রাক্তন বিধায়করা। মানিকচক বিধানসভার কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক মোত্তাকিন আলম বলেন, ‘‘তৃণমূলের ছাঁট অংশদের সঙ্গে আমাদের লড়াই নেই। লড়াই হবে, পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে।’’ এরপরই ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘গত পঞ্চায়েতের স্টাইলে শাসক তৃণমূল যদি আবার ভোট লুঠের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চায় তাহলে জেলার পুলিশ সুপার,জেলাশাসক,বিডিও ও এসডিও কাউকে রেয়াত করব না। সবাইকে ঘেরাও করব।পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে গোটা মালদহ জেলা নিস্তব্ধ করে দেব।’’

- Advertisement -

যদিও কংগ্রেসের এই হুঙ্কার গুরুত্ব দিতে চাননি শাসক দল তৃণমূল। দলের জেলা নেতা রফিকুল হোসেন বলেন, ‘‘কংগ্রেসের মাথা খারাপ হয়েছে। তাই রাস্তায় রাস্তায় ভুল বকে বেড়াচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে। এতে পুলিশ প্রশাসনের কোনও কিছু করার নেই।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেস এত সভা করছে পুলিশি নিরাপত্তায়। তাদের মুখে এমন কথা মানায় না৷’’

সম্প্রতি কিছু দিন আগে মালতীপুরের শ্রীপুরে শাসকদলের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বক্তব্যে বলেছিলেন বিরোধীদের সঙ্গে নয়। নির্বাচনে লড়াই হবে তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূলের। মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পর এবার বিরোধীদের গলায় শোনা গেল, ‘লড়াইয়ের সুর। তবে সেই লড়াই পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে।’ ফলে শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে কার লড়াই হবে, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা জেলাবাসী।

আরও পড়ুন: পেটে লাথি মারার হুমকি, সরকারি হাসপাতালে রক্ষীর বিরুদ্ধে মহিলাকে মারধরের নালিশ