‘কর জোড়ে নমস্কার’ করে তৃণমূলে যোগ দিলেন বহু মিম নেতা

0
292

কলকাতা: পড়শি রাজ্য বিহার ভোটের ফলাফল দেখে শিক্ষা নিয়ে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় চমক দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার মাটিতে একদল মিম নেতা যোগ দিলেন ঘাস ফুল শিবিরে। বাংলার শাসকদলের পক্ষ থেকে নেওয়া এই পদক্ষেপ জোরাল বার্তা দিল সমগ্র দেশের প্রতি।

আরও পড়ুন- একুশে ক্ষমতায় ফিরলে বিনামূল্যে রেশনের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হবে: মমতা

গত দুই বছর ধরে বাংলার মাটিতে বিস্তারলাভ করতে শুরু করেছে আসাদুদ্দিন অয়াইসির এআইএমআইএম বা মিম। বাংলা পরিচালনার জন্য সেই দলের শীর্ষস্তরের যারা ছিলেন তাঁরা প্রায় সকলেই সোমবার তৃণমূল ভবনে গিয়ে ঘাস ফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন। তালিকায় রয়েছে আনোয়ার হাসান পাশার মতো মিমের রাজ্য স্তরের নেতা।

এদিন তপসিয়ার তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং মলয় ঘটক দলের নবাগত সদস্যদের হাতে দলীয় পয়াতাকা তুলে দেন। তৃণমূলের পয়াতাকা হাতে নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সামনে ‘কর জোড়ে’ নমস্কার করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। নমস্কার করা ভারতীয় সংস্কৃতি বলেও জানান পাশা। সেই সঙ্গে আসসলাম আলাইকুম বলে ধর্মীয় কায়দাতেও সম্বোধন করেন তিনি।

আরও পড়ুন- বিজেপি নেতা দেবেন্দ্রর অখণ্ড ভারতের স্বপ্নকে কটাক্ষ শিবসেনার

এরপরেই দল বদল নিয়ে মুখ খোলেন মিম নেতা আনোয়ার হাসান পাশা। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি যে বিহারে বিজেপিকে জিততে সাহায্য করেছেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। মিমের কারণেই বিহারে বিজেপির হাত শক্তিশালী হয়েছে। কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাংলার মাটিতে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে দিতে চাইছি না। সেই কারণে আমরা বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলে যোগদান করছি।”

দেশের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ আর নেই বলে দাবি করেছেন সদ্য পাক্তন মিম নেতা আনোয়ার হাসান পাশা। তিনি জানিয়েছেন দেশে এমন কোনও মন্ত্রী নেই যিনি তৃণমূল নেত্রীর মতো ধর্মনিরপেক্ষ। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ইমাম ভাতা দিয়েছেন আবার পুরোহিতদেরকেও ভাতা দিয়েছেন। সিএএ-এনআরসি নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন। যা দেশের কোনও নেতা করেননি।”

আরও পড়ুন- টাকা নেবেন কিন্তু ভোট দেবেন না, বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মন্তব্য মমতার

রাজ্যে ক্রমশ বিস্তারলাভ করচেহ আসাদুদ্দিনের মিম। যার কারণে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল তৃণমূল নেতাদের। কারণ রাজ্যের মুসলিম ভোটের বড় অংশ পড়ছিল ঘাস্ফুলের পক্ষে। মিম রাজ্যে প্রার্থী দিলে সেই ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এই অঙ্কেই বিহারে জয় হাসিল করতে সক্ষম হয়েছিল বিজেপি। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই বিধানসভা ভোটের আগের মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।

 

এদিন যে সকল মিম নেতারা তৃণমুলে যোগ দিয়েছেন তাঁরাও বিজেপিকে রুখতে অর্থাৎ ভোট ভাগাভাগি রুখতে তৃণমূলের হাত মজবুত করেছেন বলে জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে বাংলায় বিজেপির রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধায়ের বিকল্প নেই বলেও দাবি করেছেন আনোয়ার হাসান পাশা। খুব শীঘ্রই রাজ্যে আসছেন মিম প্রধান হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। দল ভাঙার পরে তিনি কোন অবস্থান নেবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।