গোষ্ঠীবাজির জের, দিদির রাজত্বে টানা দু’বছর সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত আদিবাসী গ্রাম

0
8

নারায়ণগড়: সরকারি প্রকল্প রয়েছে৷ রয়েছে সরকার এবং তার দলবলও৷ কিন্তু ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে কোনও ধরণের সরকারি পরিষেবা মিলছে না আদিবাসী গ্রামে৷ যার নেপথ্যে উঠে এসেছে শাসকের গোষ্ঠীকোন্দলের তত্ত্ব৷ অভিযোগ, দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে দিন দুয়েক আগে থানা ও বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বয়কট হওয়া এই দুটি গ্রামের মানুষেরা। অভিযোগ পেয়ে এক দফা গ্রামে ঘুরে গিয়েছেন বিডিও স্বয়ং। তবে এর পরেও গ্রামবাসীরা আশ্বস্ত হতে পারেননি। ঘটনাস্থল, রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সূর্যকান্ত মিশ্রের এলাকা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগড়৷

বাম আমলের ন্যায় শাসক বদলাতেই নারায়ণগড় জুড়ে এখন শুধুই তৃণমূলের রাজ৷ অভিযোগ, সেই তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের খেসারতই দিয়ে আসছেন এই গ্রামের মানুষজন৷ তারই জেরে বয়কটের মুখে দুটি গ্রামের ৪২ টি আদিবাসী পরিবার৷ পানীয় জল থেকে ১০০ দিনের কাজ বয়কটের জেরে মিলছে না কোনও সরকারি পরিষেবায়। সামাজিক বয়কটের জেরে পঞ্চায়েত থেকে মিলছে না ন্যূনতম রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। এর ফলে চরম সমস্যায় নারায়ণগড়ের তালা, ফুলগেরিয়া দুই গ্রামের ৪২ টি আদিবাসী পরিবারের সদস্য।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দু বছর ধরে এই ৪২টি আদিবাসী পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে না কোনও সরকারি সাহায্য। মিলছে না জব কার্ডে ১০০ দিনের কাজ। এমনকি মিলছে না সামান্য জাতিগত শংসাপত্র কিংবা রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটও। দলের বিভিন্নস্তরের নেতাদের জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে দিন দুয়েক আগে নারায়ণগড় থানা ও বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বয়কট হওয়া এই দুটি গ্রামের মানুষেরা। এরপরই নড়ে চড়ে বসেছে প্রশাসন৷

ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অঞ্চল সভাপতি লক্ষীকান্ত শিট। গ্রামের কেউ সামাজিক বয়কটের শিকার নয় বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মিহির চন্দ। তবে একই সঙ্গে দলে এই ধরনের ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সামাজিক বয়কটের কথা কার্যত অস্বীকার করেছেন নারায়ণগড় পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি গণেশ মাইতি। অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই শাসকদলকে কড়া ভাষায় বিঁধেছে জেলা বিজেপির সহসভাপতি শঙ্কর গুচ্ছাইত।

বস্তুত, দলের মধ্যে থেকে কোনও গোষ্ঠী কোন্দল করা বা মদত দেওয়া যাবে না৷ বারে বারে এমন হুঁশিয়ারি সামনে এনেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁকে একাধিকবার বলতে শোনা গিয়েছে,‘‘মানুষের জন্যই দল৷ মানুষ না থাকলে দলেরও কোনও প্রয়োজন নেই৷ তাই মানুষের অসুবিধা হয় এমন কোনও কাজ যেন না করা হয়৷’’ তারপরও দলের কোন্দলে আদিবাসী গ্রামের মানুষের পরিষেবা না পাওয়া নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন৷ তবে রাজনৈতিক কচকচানি নয়, বঞ্চিত আদিবাসী পরিবারগুলির দাবি একটাই, আর পাঁচটা গ্রামের মতো আমরাও যেন সব পরিষেবা পায়৷ সেদিকে নজর দিক সরকার৷

আরও পড়ুন: ফের রাজ্যপালের ডানা ছাঁটতে বিধানসভায় আসছে সংশোধনী বিল