অর্পিতাকে চিনি না বললেও অপাকে নিয়েই চাপে শাসক

0
63

কলকাতা: মুখ খুলতে শুরু করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়৷ স্বভাবতই, দুটি বিবৃতি দিয়েও শান্তিতে নেই শাসক শিবির৷ কারণ, ইডির দাবি: পার্থ মুখ না খুললেও অর্পিতা সহযোগিতা করতে শুরু করেছেন! স্বভাবতই, কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের কাছে অর্পিতা কি বলবেন, সেটা ভেবেই স্নায়ুর চাপ বাড়ছে শাসকের৷

পাঠকের সুবিধার্থে ফিরে যাওয়া যাক ফ্ল্যাশব্যাকে৷ সেটা শনিবার সন্ধ্যা৷ তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে কুণাল ঘোষের দাবি ছিল, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি আমরা প্রথম জানতে পারি ইডি সূত্র থেকে৷ এক ভদ্র মহিলার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে৷ যাদের বিষয়ে বলা হচ্ছে, আমরা তাদের মত এখনও জানি না৷ তবু টাকা উদ্ধারের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা পরিষ্কার ভাবে জানাচ্ছি, এই টাকার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্পর্ক নেই৷ যার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে তার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই৷ কারও নাম এসে থাকলে তিনি বা তাঁদের আইজীবীরা এর উত্তর দিতে পারবেন৷ এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই৷’

- Advertisement -

৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে সোমবার বিকেল৷ নজরুল মঞ্চ থেকে কুণালের ঢঙেই নেত্রীকে বলতে দেখা যায়, ‘‘আমার ছবির সঙ্গে টাকার পাহাড়ের ছবি দিয়ে কুৎসা রটাচ্ছে বিরোধীরা। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আচরণে আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি পুজোয় যাই। অর্গানাইজাররা যদি কাউকে স্টেজে আগে থেকে ডেকে রাখে, তাতে আমি কী করতে পারি!’’

কিন্তু আদতে কি এই অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে সত্যি চেনেন না শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা? নাকি পরিস্থিতির ‘চাপে’ এড়িয়ে যাচ্ছেন? অর্পিতার ঘরে কি শুধুই টাকা রেখেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়? নাকি এসএসসি সংক্রান্ত আরও অনেক তথ্যই অর্পিতার জানা? এমনই হাজারও প্রশ্ন রাজ্য-রাজনীতির অন্দর থেকে শাসকের উঠোন, সর্বত্রই ঘুরপাক খাচ্ছে৷ তবে ঠিক কি ‘ঘটনা’, তার ‘কতখানি’ অর্পিতা জানেন, সেসবের সদুত্তর যিনি দলের কাছে দিতে পারবেন, সেই পার্থবাবুও আপাতত ইডির হেফাজতে৷ ফলে অর্পিতাকে চিনি না বললেও অপাকে নিয়েই চাপে শাসকদল- মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷

আরও পড়ুন: এবার ইডির তদন্তকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল কেন্দ্রের রিপোর্ট