‘দিদি, মানুষ ছেড়ে আমরা কি বড্ড পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়ছি না’, প্রশ্ন তৃণমূলেই

0
63
TET

সুমন বটব্যাল, কলকাতা: নিয়োগের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের (TET) বিক্ষোভ৷ নিছকই অরাজনৈতিক আন্দোলন৷ সরকারিভাবে আন্দোলনকারীদের দাবিকে আগেই অন্যায্য ঘোষণা করা হয়েছিল৷ জল ঘোলা করতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকে বাম, গেরুয়া শিবির হাঁটি হাঁটি পা পা করে আন্দোলনস্থলে হাজিরও হচ্ছিলেন৷ শুরু থেকে পুলিশও ‘ধৈর্য্যে’র পরীক্ষা দিচ্ছিল৷ আদালতের তরফ থেকে স্বস্তিজনক রায়ও এসেছিল৷ পাল্টা কৌশল নিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা৷ ১৪৪ ধারার নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে তারা চারজন করে একেকটি বৃত্ত তৈরি করে বসে পড়েন৷ আর তাতেই কি শেষ পর্যন্ত ঘটল পুলিশের ’ধৈর্য্যচ্যুতি’?

এতে কাদের উপকৃত করা হল? আদ্যন্ত ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলনকে হঠিয়ে আদতে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হল না কি? লক্ষ্মীবারের রাতের ঘটনায় এমনই হাজারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শাসকের অন্দরে৷ দলের নিচুতলার কর্মীরাই বলছেন, ‘‘আমাদের দিদি বরাবরই মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চান৷ আজও তার ব্যতিক্রম হয় না৷ তাই এরাজ্যের জেলা সফর হোক কিংবা ভিন রাজ্য, অনেকসময়ই তিনি প্রোটোকল ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে হনহনিয়ে জনতার ‘কাছে’ পৌঁছে যান৷ এটাই সত্যিকারের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই তাঁর রাজত্বে যদি পুলিশ দিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হঠানো হয়, তাহলে বসু-ভট্টাচার্যর জমানার সঙ্গে আর ফারাক কি রইল?’’

- Advertisement -

ওই অংশের মতে, ‘‘নিয়োগের দাবিতে যাঁরা অবস্থানে বসেছিলেন তাঁদের প্রতি সরকারের অবস্থান তো আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন পর্ষদ সভাপতি কিংবা শিক্ষামন্ত্রী৷ সাফ জানিয়েছিলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দাবি অনায্য৷’ বাকি বিষয়টা না হয় আদালতে মীমাংসা হত৷ তা না করে এভাবে আন্দোলনকারীদের জোর করে হঠিয়ে আদতে কি পুলিশি নির্ভরতার প্রমাণ দেওয়া নয়? সরকারি ‘সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে বিরোধীদের এককাট্টা করতেও কি সাহায্য করল না এই পুলিশি পদক্ষেপ?’’

বস্তুত, মধ্যরাতে আন্দোলনকারীদের হঠাতে করুণাময়ীতে হাজার হাজার পুলিশ৷ টিভি কিংবা মোবাইলের পর্দায় সেই ছবি দেখে অনেককেই ক্ষোভের সুরে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘মন্ত্রী বান্ধবীর বাড়িতে কোটি কোটি টাকা লুকিয়ে রাখলে দোষ নেই, চাকরিপ্রার্থীরা (TET) নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে চাইলেই যত দোষ!’’ বস্তত, পুলিশি ‘মুভমেন্টে’র প্রতিবাদে এদিন সকাল থেকে পাল্টা আন্দোলনে ফের তপ্ত করুণাময়ী৷ স্বভাবতই, দলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক অতীতে বড্ড বেশি পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়ছে মা-মাটি-মানুষের সরকার৷ পাল্টা মত হিসেবে উঠে আসছে জীর্ণ প্রবাদ- ‘শক্তের ভক্ত, নরমের যম’৷

নেটিজেনরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ক্ষমতার বলে ২০০৭ সালের ১৩ মার্চ নন্দীগ্রামে পুলিশ-ক্যাডার দিয়ে মানব প্রাচীর ভাঙতে সক্ষম হয়েছিলেন তৎকালীন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের ‘ডন’ লক্ষ্মণ শেঠ৷ কিন্তু এই পুলিশের প্রতি অতি-নির্ভরতার ‘পরিণতি’ কি হতে পারে, সেটা ভাল জানে সিপিএম৷

আরও পড়ুন: দিদির জমানা: আতঙ্কের নাম CPM, প্রাণ বাঁচাতে মরা স্বামীকেও অস্বীকার করতে দ্বিধা করেননি বধূ

https://play.google.com/store/apps/details?id=app.aartsspl.khaskhobor