দিদির কেষ্টকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার বিপক্ষে সিপিএম নেতা Sujan Chakraborty

‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় জঙ্গলমহল নাকি হাসছে, এমন হাসছে যে হাসি থামছে না৷ সেই জঙ্গলহলে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কলকাতায় ব্যাক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ওর আরেক মন্ত্রী জঙ্গলমহলের মানুষের প্রশ্ন শুনে গাড়ি ঘুরিয়ে পালিয়ে এসেছে৷’’

0
197
Sujan Chakraborty slams TMC leaders from CPIM rally in kolkata

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অ্যারেস্ট মেমোই সই করেননি৷ দিল্লি না যাওয়ার ‘জেদে’ অনড় আসানসোল জেলের ‘বাসিন্দা’ অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)৷ এমন আবহে জুম্মাবারেই দিল্লি উড়ে দিয়ে তৃণমূলের কেষ্টকে দেশের রাজধানীতে নিয়ে যেতে তৎপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ইডি৷ মঙ্গলবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে দিল্লির আদালত৷ এমন আবহে কেষ্ট ইস্যুতে ইডির পদক্ষেপকে ‘অতি সক্রিয়’ হিসেবেই দেখছে রাজ্যের শাসকদল৷ সিপিএমের এরাজ্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা সুজন চক্রবর্তীও (Sujan Chakraborty), অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন!

লেখার ভুল নয়! শুক্রবার সারেঙ্গা মিশন ময়দানে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির দশম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশের প্রধান বক্তা ছিলেন সুজন (Sujan Chakraborty)৷ সেখানেই সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে খানিকটা শ্লেষের সুরে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলীর দাপুটে সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অনুব্রতকে দিল্লিতে নিয়ে যাচ্ছে নিয়ে যাক৷ তবে ওকে ভাগাড়ে নিয়ে গেলেই ভাল হয়!’’ নিজের বয়ানের স্বপক্ষে সুজনের ব্যাখ্যা, ‘‘বালিপাচার, কয়লা পাচার, গরু পাচার, চাল কল, নিজের মেয়ের সর্বনাশ সব করেছে৷ পুলিশকে বোম মারতে বলেছে৷ দাপট দেখিয়েছে, বেআইনি সম্পদ করেছে. বেআইনি সম্পদের ভাগ কালীঘাটে পৌঁছে দিয়েছে৷ তারপর কালো টাকাকে সাদা করতে লটারিকে কলুষিত করেছে৷ জেল ছাড়া ওর (অনুব্রতের) আর থাকার জায়গা কোথায়? ভাগাড়ে যেতে হবে তবে!’’

- Advertisement -

একই সঙ্গে সরব হয়েছেন বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাতের প্রসঙ্গে৷ দাবি করেছেন, ‘‘তৃণমৃল যখন ক্ষমতায় আসেনি বিজেপি তখন এরাজ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি৷ তৃণমূল যখন ছিল না তখন ‘গ্রামে গঞ্জে লুঠের রাজত্ব ছিল না৷ তৃণমূলের হাত ধরেই এরাজ্যে মাওবাদীদের বাড়বাড়ন্ত৷’’ নিয়োগ কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রসঙ্গ৷ বলেছেন, ‘‘সেদিন ব্রাত্য বসু বলেছে, ‘পরীক্ষায় পাশ করলেই কি চাকরি দিতে হবে৷’ তারপরই ওর সঙ্গে আমার দেখা হয়৷ আমি ব্রাত্যকে হাসতে হাসতে বললাম, ‘আপনি যখন চাকরি পেয়েছিলেন, তখন বাম জমানা৷ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু৷ আপনি তো টাকা দিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে চাকরি পাননি৷ বাম আমলে চাকরি হয়েছে যোগ্যতার বিচারে৷’ তবে এটাও বুঝতে হবে, বাজে কথা না বললে তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নম্বর বাড়বে না!’’

এরপরই সরাসরি কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে৷ বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় জঙ্গলমহল নাকি হাসছে, এমন হাসছে যে হাসি থামছে না৷ সেই জঙ্গলহলে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে কলকাতায় ব্যাক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ ওর আরেক মন্ত্রী জঙ্গলমহলের মানুষের প্রশ্ন শুনে গাড়ি ঘুরিয়ে পালিয়ে এসেছে৷’’ অভিযোগ করেছেন, নতুন করে ১০০ দিনের কাজ হচ্ছে না৷ বার্ধক্যভাতার টাকা দিচ্ছে না৷ মিড ডে মিলের রাধুঁনীরা পাঁচ মাস ধরে টাকা পাচ্ছে না৷ সব টাকা লোপাট হয়ে যাচ্ছে৷ সারা বাংলা জুড়ে তোলাবাজি চলছে৷ পঞ্চায়েত ভোটে এর বিরুদ্ধেই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি৷ তাৎপর্যপূর্ণভাবে একদা লাল-দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়ায় ফের ভিড় বাড়ছে বামেদের সভা, সমাবেশে৷ তবে এই ‘ভিড়’ শেষ পর্যন্ত ভোটব্যাঙ্ক পর্যন্ত পৌঁছায় কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত বাম নেতারাই৷ কারণ, শাসক বদলালেও ভোটের সন্ত্রাসের খ্যাতি আজও যে ভীষণভাবেই অটুট এই বাংলায়,- মত ওয়াকিবহাল মহলের৷

আরও পড়ুন: মোবাইল থেকে ‘চুরি’ প্রেমিকার সঙ্গে যৌন মিলনের অন্তরঙ্গ মুহূর্ত, Viral Video, অবসাদে আত্মঘাতী তরুণ