বিজেপির থেকে বামপন্থীদের স্পিরিট বেশি, বলছে নেটিজেন থেকে শুরু করে তৃণমূলও

0
125

ঋতিকা চক্রবর্তী, কলকাতা: মঙ্গলবার বিজেপির (BJP) নবান্ন অভিযানকে ঘিরে উত্তপ্ত হাওড়া, সাঁতরাগাছি, লালবাজার, বড়বাজার সহ একাধিক এলাকা। কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছিল পুলিশ৷ স্বাভাবিক ভাবেই পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের ধুন্ধুমার সংঘর্ষ। জল কামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে আটকে দেয় পুলিশ। পাল্টা ইট, বাঁশ দিয়ে, পাথর ছুঁড়ে পুলিশকে আক্রমণ বিজেপি কর্মীদের। কিন্তু এতসব হলেও কোথাও যেন একটা খামতি রয়ে গেল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে আমজনতা, এমনকি শাসক দল তৃণমূলও পর্যন্ত বিজেপির এই অভিযান ‘ফ্লপ’ বলতে বাধ্য হচ্ছে।

বরং, নবান্ন অভিযান বললেই অনেকেরই চোখে ভেসে উঠছে লাল জনস্রোতের ছবি। সিপিএম তথা বাম কর্মীসমর্থকদের নবান্ন অভিযানের সঙ্গে বিজেপির আজকের মিছিলের তুলনা টেনেছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্ট ও মিমসও ঘুরছে। একপাশে বাম শীর্ষ নেতৃত্বদের পুলিশের সামনে থেকে লড়াই ও ব্যারিকেড ভাঙার ছবি, অন্যদিকে দিলীপ ঘোষের ছবি। হ্যাঁ, আজ বিজেপির নবান্ন অভিযানে বারবার উঠে এসেছে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম। দুপুর যখন ২ টো ৪০ বেজে গিয়েছে, তখন সাঁতরাগাছিতে চলছে দফায় দফায় চলছে খণ্ডযুদ্ধ। যখন পুলিশি বাধার মুখে পড়ে সুকান্ত মজুমদার অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন ঠিক সেই সময়ে দিলীপ ঘোষ হাওড়া ব্রিজের কাছে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ঘোষণা করে দেন, ‘নবান্ন অভিযান শেষ’। এই নিয়েই এখন চলছে জোর জল্পনা।

- Advertisement -

বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার মাথায় হেলমেট পরেছিলেন। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম সমর্থক আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “মনে করার চেষ্টা করছিলাম কোন দলের রাজ্য সম্পাদক বা সভাপতি এমন হেলমেট মাথায় আইন অমান্য করতে যায়? বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল, বেশ সুন্দর সুসজ্জিত ভাবে সুকান্ত মজুমদারের পাশে বসে রইলেন। বিরোধী শুভেন্দু অধিকারী নিজে নিজেই হেঁটে হেঁটে পুলিশের ভ্যানে উঠে পড়লেন পুলিশের সঙ্গে নূন্যতম ধাক্কাধাক্কিও করলেন না, দেখে।”

এবার যদি বাম কর্মীসমর্থকদের নবান্ন অভিযানের দিকে চোখ রাখা হয়, তবে সেই ছবি কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলবে। ২০১৭ সালে সিপিএমের নবান্ন অভিযানে বাম শীর্ষ নেতৃত্ব সুজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিম, সূর্য কান্ত মিশ্র, তন্ময় ভট্টাচার্যদের সামনে থেকে লড়াই করতে দেখা গিয়েছিল। সাধারণ কর্মী সমর্থকদের আগে তারাই পুলিশের সম্মুখে ছিলেন। ২০২১ সালের নাম ছাত্র যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানেও একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লেও তারাও পালটা রুখে দাঁড়ান। এদিন সাংবাদিকদের বৈঠকে রাম ও বামেদের নবান্ন অভিযানের মধ্যে বামেদেরই এগিয়ে রাখলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, “কোনও জনভিত্তি নেই, মানুষের সমর্থন নেই, একটা ফ্লপ অভিযান। বিজেপির থেকে বামপন্থীদের কর্মসূচি বা ছেলেমেয়েদের স্পিরিট অনেক ভাল ছিল।”